
কলকাতা: বীরভূমের বেআইনি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল বেপত্তা। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। তবে, বেপাত্তা হওয়ার পরও আদালতে ঠিক মামলা-মোকদ্দমা করছেন তিনি। এই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার আদালতে উঠেছিল সেই মামলা। আর সেখানেই টুলুকে রামায়ণের ‘ইন্দ্রজিত’ চরিত্রের সঙ্গে তুলনা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের। এ দিন, একক বেঞ্চ টুলুর এই মামলা খারিজ করে দেয়।
এ দিন, বিচারপতির আদালতে পর্যবেক্ষণ, এখানে তো মামলাকারী রামায়ণের ইন্দ্রজিত। তিনি মেঘের আড়ালে বসে সব লক্ষ্য করছেন দেশের বাইরে বসে আছেন। তিনি তো মুক্ত। তাঁকে কী সুরক্ষা দেবে কোর্ট? তবে, এ দিন কোর্টে আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে সওয়াল করেন। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এখনই তদন্তে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ দেখছে না আদালত।
এরপর রাজ্যের দেওয়া মুখ বন্ধ খামে রিপোর্ট খুলে পড়েন বিচারপতি। তারপর মন্তব্য, “অর্গানাইজড ক্রাইমের ধারা যথাযথ যুক্ত করা হয়েছে। বালি, পাথরের অবৈধ পাচার থেকে সংঘবদ্ধ ভাবে তোলাবাজি, জমি হাতানো – যাবতীয় অভিযোগ আছে মামলা কারীর বিরুদ্ধে। জাল নথি দিয়ে টোল আদায়ের মতো ঘটনায় অভিযুক্ত। যার ফলে সরকারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। দু’টি মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। রয়েছে মহম্মাদবাজারের দুটো মামলা। এই অবস্থায় ঘটনার গভীরতা বুঝেই হস্তক্ষেপ করতে নারাজ কোর্ট।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুলিশের যে রিপোর্ট এসেছে তাতে অর্গানাইজড ক্রাইমের পর্যাপ্ত অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্য রয়েছে তার সঙ্গে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকা ও সোনা নিয়ে তদন্ত যুক্ত হয়েছে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। পুলিশকে আদালতের নির্দেশ, দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মামলাকারীর আগাম জামিনের আবেদনের সুযোগ রয়েছে।