
কলকাতা: কলকাতা বিমানবন্দর (Netaji Subhash Chandra Bose) থেকে গ্রেফতার হওয়া এক মহিলাকে সাত দিনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের (UP Court) আদালতে পেশ করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে (West Bengal Police)। উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের একটি থানায় দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার সঙ্গে ওই মহিলা যুক্ত বলে অভিযোগ। তবে পশ্চিমবঙ্গের কোনও মামলায় তিনি অভিযুক্ত বা পুলিশের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ রয়েছে, এমন নথি আদালতে দেখাতে পারেনি রাজ্য।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড
জয়নব আরা খাতুন নামে ওই মহিলা কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হন। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর ৫৮ থানায় ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
এই গ্রেফতারি ও আটক রাখার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করেন জয়নব। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তাঁকে আদালতে হাজির করার আর্জি জানানো হয় এই মামলায়।
মামলাটি শুনানির সময় বিচারপতি রিশাদ মেডোরা এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ২০২৬ সালের ১৬ ও ১৯ অগস্ট ব্যারাকপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাঁর ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন খারিজ হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর জামিনের আবেদনও নাকচ হয়ে যায়। ১৬ অগস্ট থেকে তিনি হেফাজতে রয়েছেন।
শুনানিতে রাজ্যের তরফে ওই মহিলার বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে আদালত জানায়, এই ১৩টি মামলাই উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের সেক্টর ৫৮ থানার সঙ্গে সম্পর্কিত। পশ্চিমবঙ্গের কোনও ফৌজদারি মামলায় তিনি অভিযুক্ত বা পুলিশের কাছে তাঁর প্রয়োজন রয়েছে, এমন কোনও নথি রাজ্য পেশ করতে পারেনি।
এদিকে, ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়। সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, তাঁকে অবিলম্বে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরের সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করতে হবে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ উপস্থিত না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সতর্কতা নিয়ে তাঁকে আদালতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া সাত দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই মামলার শুনানি হয়েছিল।