
কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি আসতেই কখনও বোর্ড ভেঙে যাচ্ছে, কখনও পুরসভার কাউন্সিলররা গ্রেফতার হচ্ছেন। এই আবহের মধ্যেই কলকাতা পুরনিগমে ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে চেয়ারপার্সন মালা রায় (Mala Roy) পুরনিগমে বৈঠক ডাকলেও খোলা হয়নি ঘর। এই নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের মামলা। আর আজ বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি বিশ্বরুপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ পুর আইন মেনে বৈঠক ডাকতে পারবেন মালা।
কলকাতা হাইকোর্ট কী কী নির্দেশ দিয়েছে?
যে দিন অধিবেশন কক্ষের দরজা খোলা হয়নি অর্থাৎ ২২ মে মাসিক বৈঠকের বৈধ রেজুলিউশনের কপি হলফনামা আকারে ৯ জুনের মধ্যে হাইকোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৭ জুন। এ দিকে, পালা বদলের পর বাতিল হয়েছিল পৌরনিগমের মেয়র পারিষদের বৈঠক। এমনকী, পৌরনিগমের সচিবও বদল করে দেয় রাজ্য সরকার। এই মামলার সময় আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, চিবকে সহযোগিতার নির্দেশ দিক আদালত। তবে, এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি কোর্ট।
কী ঘটেছিল ২২ মে?
অধিবেশনের ডাক দিয়েছিলেন মালা রায়। এ দিকে, পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পান্ডে বিজ্ঞপ্তি জারি জানিয়েছিলেন মাসিক অধিবেশন বাতিল। তবে, মালা সব কাউন্সিলরদের দুপুরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিযোগ, ওইদিন তৃণমূল কাউন্সিলররা পুরনিগমে গেলেও অধিবেশন কক্ষের দরজা খোলা হয়নি। তালা বন্ধ থাকে। শেষে অধিবেশন কক্ষের বাইরে সভা বসে।
ক্ষুব্ধ ফিরহাদ হাকিম বলেন, “অধিবেশন বাতিলের পর কলকাতায় কোনও বিপর্যয় হলে দায় কে নেবে? অধিবেশন ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। সচিব নয়,অধিবেশন যদি কেউ বাতিল করতে পারেন চেয়ারপার্সন। যেভাবে অধিবেশন বাতিল করা হয়েছিল,সেটা গণতন্ত্রের অপমান। অধিবেশন না হলে পুর-পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে কীভাবে? গণতন্ত্রের উপরে কেউ নয়, তাই গণতন্ত্রে রক্ষা করুন। আমরা সকলে একসঙ্গে লড়ব।” এরপরই অধিবেশন ডাকা নিয়ে মামলা হয় কোর্টে।