
কলকাতা: আরজি কর মামলায় (RG Kar Case) সিবিআই তদন্ত (CBI Investigation) নিয়ে ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। চার্জশিট দাখিলের প্রায় দেড় বছর পরেও কেন তদন্ত শেষ হয়নি? সিবিআই তদন্তে গা ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। আজ আরজি কর মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর মামলার রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। গত ২১ মে সিবিআইকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই মতো এদিন রিপোর্ট জমা দিয়ে আদালতে সিবিআই জানিয়েছে, নির্দেশ অনুযায়ী তিন সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। কিন্তু, বিচারপতি শম্পা সরকারের মন্তব্য, আদালতের নির্দেশই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে সিবিআই।
কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর মামলা
আজ আরজি কর মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছে। এদিন, সিবিআই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই বিচারপতি। আজ সিবিআই রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, “সিবিআই তদন্তে হস্তান্তরে দেরি, তথ্য প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য কারা দায়ী ? কারণ এটাও তো একটা অপরাধ।” একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য,”পরিবারের কী অভিযোগ রয়েছে? কেউ অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে সেটাও তো সিবিআইকে খুঁজে বের করতে হবে।”
বিচারপতির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিবিআই জানিয়েছে, তাঁরা একাধিকবার সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেছেন, পরিবারের সব বক্তব্য শুনে উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু, মায়ের বক্তব্য কোথায়, প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি শম্পা সরকার। সিবিআই জানিয়েছে, তাঁরা বক্তব্য লিখে রেখেছেন। এরপরই তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ : সিবিআই এই মামলায় গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। চার্জশিট দাখিলের পর ১ বছর ৭ মাস কেটে গিয়েছে। তদন্ত কবে শেষ হবে ? তাহলে এই মামলা আমরা সিবিআইয়ের হাত থেকে নিয়ে নিচ্ছি। আর নির্দেশে এটাও লিখব যে সিবিআইয়ের আধিকারিকরা হাইকোর্টের ঊর্ধ্বে, তারা আদালতের নির্দেশ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা উপযুক্ত তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিচারপতি শম্পা সরকার : আমাদের নির্দেশের মানেই ছিল যে আগের তদন্তকারী অফিসারদের মামলা থেকে সরিয়ে নতুন গঠিত সিটকে দেওয়া। সেটাই আপনারা বুঝতে পারছেন না? আপনারা আপনাদের সহকর্মীদের প্রতি এত সহানুভূতিশীল?
এরপরই তদন্ত সিআইডির হাতে দেওয়ার বিষয়ে সওয়াল করেন তিলোত্তমার পরিবার। আদালতে তাঁদের দাবি,”সিবিআই না পারলে মামলা সিআইডিকে দিয়ে দেওয়া হোক। তবে, বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই আধিকারিকদের তদন্তে আস্থা রেখেছেন। আদালতে বিচারপতি জানিয়েছেন, তাঁরা সিবিআইয়ের আধিকারিকদের প্রতি আস্থা রাখছেন। আশা করছেন যে তাঁরা সঠিক তদন্ত করবে। তবে, একইসঙ্গে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুরানো কোনও তদন্তকারী আধিকারিক নবগঠিত সিটে থাকবেন না। মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ৬ অগস্ট।