
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: তৃণমূল সরকারের আমলে আরও একটি ব্যর্থতা সামনে এল। তৃণমূল জমানায় দেশের মধ্যে বাল্যবিবাহে প্রথম সারির রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় সংস্থার রিপোর্ট সামনে এল। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা দেশে বাল্যবিবাহের হার ২.১ শতাংশ। সেখানে ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে সেই হার ৬.৩ শতাংশ। অর্থাৎ সারা দেশের গড় হারের থেকে বাংলায় বাল্যবিবাহের হার অনেকটাই বেশি।
কন্যাসন্তানের শিক্ষা ও সুরক্ষার জন্য বছর এগারো আগে কেন্দ্র চালু করে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি। কেন্দ্রের বেশিরভাগ প্রকল্প ও কর্মসূচিই বাংলায় চালু করেনি পূর্বতন তৃণমূল সরকার। তেমনই কেন্দ্রের এই কর্মসূচি নিয়েও তৃণমূল নেতারা নানা সময় কটাক্ষ করেছেন। তাঁরা যুক্তি দেন, কন্যাসন্তানদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নানা পদক্ষেপ করেছেন। রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, সবুজসাথীর সাইকেলের কথা প্রায়ই তাঁদের মুখে শোনা যেত। কিন্তু, সেইসব করে যে বাংলায় বাল্যবিবাহ রোধ করা যায়নি, কেন্দ্রীয় সংস্থার রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়ে গেল।
সম্প্রতি স্যাম্পেল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিপোর্ট ২০২৪ প্রকাশ করেছে রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। সেখানেই বাংলায় বাল্যবিবাহ নিয়ে ওই তথ্য জানা গিয়েছে। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের জমানায় প্রশ্ন উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের নারী শিক্ষা নিয়েও। কারণ, রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের মোট বিবাহযোগ্য নারীর মাত্র ৪৯.২ শতাংশ মহিলার ২১ বছর বা তার বেশি বয়সে বিয়ে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বাকি ৫০ শতাংশের বেশি উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে মহিলাদের বিবাহের হার ৪৪.৫ শতাংশ। রাজ্যে শহরের থেকে গ্রামীণ এলাকায় বাল্যবিবাহের হার বেশি। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পরিসংখ্যানও অত্যন্ত খারাপ। দেশের মধ্যে কোনও বাল্যবিবাহের রিপোর্ট নেই দিল্লিতে। রাজ্য হিসেবে বাল্যবিবাহ রোধে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স কেরলমের। এই মুহূর্তে মহিলাদের বিয়ের বয়সে নিরিখে জাতীয় স্তরে গড় ২৩.১ বছর। প্রসঙ্গত, বাল্যবিবাহের সমান্তরালেই স্কুল ড্রপ আউট, আর্লি প্রেগন্যান্সি, মাতৃত্বকালীন শারীরিক ঝুঁকি, মহিলাদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যা-সহ একাধিক বিষয় জড়িত।