
কলকাতা: পালা বদলের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঠিক যা যা দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে তা জানলে খানিক চমকে উঠতে হয়। বালি-কয়লা-চাকরি তো দূরে থাক, পুরসভার বালতি থেকে শুরু করে ড্রেনের ঢাকা এমনকী বল চুরির অভিযোগ পর্যন্ত উঠছে। আর এবার প্রকাশ্যে এল আরও এক দুর্নীতি। তা হল ‘এভারেস্ট দুর্নীতি’ । এটা পড়ে খানিক চমকে উঠলেন তো? এই ভয়ঙ্কর অভিযোগ যিনি এনেছেন তিনি হলেন বাংলার তথা চন্দন-নগরের মেয়ে, অসামান্য পর্বতারোহী-মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী পিয়ালি বসাক। আর এই দুর্নীতির মাথায় যিনি ছিলেন, তিনি আর কেউ নন তৎকালীন যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পিয়ালী জানালেন কীভাবে অরূপ ঘনিষ্ঠরা পর্বতারোহীদের নিম্নমানের সামগ্রী দিতেন। এমনকী, পর্বতে ওঠার সময় কীভাবে পিয়ালিকে মারধর করা হয়েছিল সবটা টিভি ৯ বাংলা ডিজিটালকে এক্সক্লুসিভ জানালেন তিনি।
‘ফ্রস্ট বাইটে ২০টা আঙুল বাদ গেল’
পিয়ালি বলেন, “২০১৮ সালে একটি অভিযান করা হয়। রাজ্য সরকারই সেটার আয়োজন করে। পর্বত আরোহীদের যাবতীয় জিনিস সরকারই দিত। দশজন ছেলেকে ওরাই সিলেক্ট করেছিল। তৃণমূল সরকারের তরফে যে তাঁবু-স্লিপিং ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল সব নিম্নমানের। মাত্র ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় ফ্রস্ট বাইট হয়ে যায়। ৫ জন ছেলের ফ্রস্ট বাইট হয়ে গেল। ওদের পায়ের সব আঙুল আর হাতের সব আঙুল বাদ দিতে হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস তখন সামলাতেন এই ডিপার্টমেন্ট।”
মৃতদেহ খোঁজার টাকা গেল কোথায়?
পিয়ালি বলেন, “পর্বতারোহীদের নিয়ে কমিটি তৈরি হয়েছিল তাতে ছিলেন -দেবদাস নন্দী, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, দেবরাজ দত্ত, উজ্জ্বল রায়। পাহাড়ে তো অনেকে মারা যান। যেমন- ছন্দা গায়েন, দীপঙ্কর ঘোষ, গৌতম ঘোষ, পরেশ নাথ, সুভাষ নাথদের মতো মানুষদের আমরা হারিয়েছি। এদের মৃতদেহ খুঁজতে রাজ্য সরকার এক-একজন পিছু ২ কোটি টাকা দিয়েছিল। অথচ নেপালের এজেন্সি বলল টাকা পায়নি। সেই টাকা কোথায় গেল?
‘অরূপ বিশ্বাস নিজেই যুক্ত আমি বুঝিনি’
পিয়ালি বললেন, “আমি প্রথমে বুঝতাম না মন্ত্রী নিজেই যুক্ত। ভেবেছি এগুলো (যে সকল বেআইনি ঘটনা ঘটেছিল) জানালে হয়ত সমস্যার সমাধান হবে। আমি যখন এই সমস্ত কথা অরূপ বিশ্বাসকে জানাতে গিয়েছি, উনি আমার কথা শুনলেন না। এমনকী বডি গার্ড ছিল তাঁদের দিয়ে আমায় বাইরে বের করে দিল নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের।”
‘২৮ হাজার ফুট উচ্চতায় মেরেছে’
এ দিন, পিয়ালি বসাক বারেবারে তৎকালীন রাজ্য সরকারের কর্তৃক তৈরি হওয়া কমিটিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। এমনকী তিনি এও অভিযোগ করেছেন, ওই কমিটির একাংশ লোকজন এভারেস্ট সামিটের সময় পিয়ালির সঙ্গে থাকে একজন শেরপাকে প্রচুর টাকা ঘুষ দিয়েছিল। তিনি বলেন, “২০১৯ সালে এভারেস্ট সামিটের সময় একজন শেরপা আমায় মেরেছে। ওই কমিটির লোকজন শেরপাকে টাকা খাইয়ে ২৮ হাজার ফুট উচ্চতায় আমায় মেরেছে। যাতে না আমার এভারেস্ট সামিট হয়। আমার জিনিস-পত্র ওই শেরপা বিদেশীদের দিয়ে দিত। এরপরও চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছি আমি।“