
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে। আর ঠিক সেই সময়ই বদলে গেল ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের চেহারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিকানাতেই তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে যান সিআইডি অফিসাররা। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। সিআইডি অফিসারদের সঙ্গে রীতিমতো বচসা চলে তৃণমূলের এই আইনজীবী নেতার।
শুভাশিস: আমরা কী করে অ্যালাউ করব?
CID: আমরা আইন মেনে এসেছি। রেজোলিউশনটা এখানে লেখা হয়েছে। আইনত আপনি পারেন না আটকাতে।
শুভাশিস: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে আমি ঢুকতে দিতে পারব না। আমার নাম শুভাশিস চক্রবর্তী। যে চিঠি দিয়েছে, তার অ্যাবসেন্সে কী করে ঢুকতে দেব? আমিও আইনের ছাত্র। ৪০ বছর ধরে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছি।
CID: আপনি তো কী হতে পারে জানেন। আমরা কোনও বেআইনি কাজ করতে আসিনি। সার্চ করতে এসেছি।
শুভাশিস: আমি পারব না ঢুকতে দিতে।
CID: আপনার পারমিশন তো আমরা নেব না।
শুভাশিস: যাঁর চিঠির জন্য এসেছেন, তিনি না থাকলে কী করব। তাঁর অনুপস্থিতিতে কাগজপত্র দেখতে এসেছেন। ২ দিন সময় দিন।
CID: ওঁকে (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) নোটিস দেওয়া হয়েছিল। উনি নথি জমা দেননি, তাই এসেছি।
শুভাশিস: আমি অ্যাডমিট করতে পারব না। ওঁরা দিল্লি থেকে ফিরলেই আসবেন।
CID: আপনি তো বাধা দিচ্ছেন।
শুভাশিস: আমার বাড়ি নয়, আমি অনুমতি দেব কেন! আপনারাও জানেন দিল্লিতে গিয়েছে।
CID: না, আমাদের সেভাবে কিছু জানানো হয়নি।
শুভাশিস: তাহলে যান, আপনাদেরই কনসিকুয়েন্স (ফল) ভুগতে হবে।
পেশায় আইনজীবী শুভাশিস স্পষ্ট জানান, তিনি আপাতত তৃণমূলের ওই কার্যালয় সামলানোর দায়িত্বে আছেন। তিনি চান, মমতা ও অভিষেক দিল্লিতে ফিরলে তল্লাশি হোক। তবে শেষ পর্যন্ত, সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে মমতার ওই অফিসের ভিতরে প্রবেশ করেন সিআইডি আধিকারিকরা।