
কলকাতা: তারাতলা বিপর্যয়ের পরই সব নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অডিটের পরই হবে নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। অডিটের আওতায় কোন কোন জায়গা রয়েছে, তাও জানিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও তিনটে জায়গা। অডিটের আওতায় রয়েছে দক্ষিণ দমদম, বরানগর, কামারহাটি পুরসভা। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রথম থেকে জ়িরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘বাড়ির প্ল্যানে কোনও দুর্নীতি হলে এফআইআর করুন। পদক্ষেপ করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “তারাতলার ঘটনায় এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। এনডিআরএফ নেতৃত্ব দিচ্ছে, বাকিরা সাহায্য করছে। আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে আজ রাতের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শেষ হবে।”
অডিট তিনটে ধাপে করা হবে। একটি বাতিল। একটি পুনরায় সুযোগ দেওয়া আরেকটা হল ক্লিয়ারেন্স। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় কমার্শিয়াল বিল্ডিং ৩১ জুলাই পর্যন্ত অডিট করছি। রেসিডেন্সিয়াল ক্ষেত্রে সংস্কারের বাইরে থাকছে। নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ে অডিটের টিম তৈরি হয়েছে। অডিটের পর ছাড়পত্র পেলে তবেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। তিন মাসের মধ্যে সব বহুতলের ফায়ার অডিট সম্পূর্ণ করতে হবে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, বিল্ডিং নকশায় ত্রুটি থাকলে ঠিক করতে হবে। বেশি অনিয়মে বাতিল হতে পারে পুরো নির্মাণ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তারাতলায় কোনও নজরদারি ছিল না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যারা বেনিয়ম করবে, তাঁদের ব্ল্যাক লিস্ট করা হবে। TMC জমানায় যাঁরা দুর্নীতি করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। কোনও পুর কর্মী দুর্নীতি করলে ছাড়া হবে না। একইসঙ্গে তাঁর পরামর্শ, “বাড়ির প্ল্যানে কোনও দুর্নীতি হলে এফআইআর করুন।” তাঁর আশ্বাস পদক্ষেপ করা হবে।
বিগত সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এতদিনেও বিপর্যয় মোকাবিলায় পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি কেনা হয়নি। এটা লজ্জার। আগামী দুই মাসের মধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলার সব সামগ্রী কেনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।