
কলকাতা: ঠিক ছিল মঙ্গলবার দিল্লি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিন্তু, রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থাকায় আগামিকাল দিল্লি যাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্যায় সোমরাত পৌঁছে গেলেন নবান্নে। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আধ ঘণ্টার মতো তাঁর বৈঠক হল। তবে বৈঠক শেষে দু’পক্ষই কোনও মন্তব্য করল না।
রাজ্যে পালাবদলের পর ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ এনসিপিআই-এ যোগ দেন। তৃণমূল ছাড়ার পর লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে তাঁরা আর্জি জানান, তাঁদের এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। যেহেতু তাঁরা এনডিএ-র শরিক হতে চান, তাই লোকসভায় তাঁদের আসন এনডিএ শরিকদের পাশে দেওয়া হোক। কিন্তু, লোকসভার অধ্যক্ষ এখনও সুদীপদের দলবদলকে স্বীকৃতি দেননি। শুধু তাঁদের আসন বদলেছেন। এরই মধ্যে আগামিকাল NDA-র বৈঠকে ডাকা হয়েছে এনসিপিআই সাংসদদের। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দাবি জানিয়েছেন, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় সুদীপদের সাংসদপদ খারিজ করা হোক।
এই আবহে মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়ে বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। এর আগেও দিল্লিতে গিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এদিন এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার ১টার সময় বৈঠক রয়েছে বঙ্গভবনে। তাঁদের কিছু বলার রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামিকাল বঙ্গভবনে গিয়ে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেন শুভেন্দু। জানা যাচ্ছে, রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। তাই আগামিকাল দিল্লি যেতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে এদিন রাত সাড়ে আটটা নাগাদ নবান্নে চলে আসেন সুদীপ। আর এদিন দিনভর উত্তরবঙ্গে একাধিক কর্মসূচি সেরে শহরে ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনিও নবান্নে পৌঁছে যান।
নবান্নে প্রায় আধ ঘণ্টা বৈঠক হয় শুভেন্দু ও সুদীপের। বৈঠক শেষ গাড়িতে চেপে বেরিয়ে যান এনসিপিআই সাংসদ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু, তাঁর আচমকা নবান্নে আসার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বেড়েছে।