
কলকাতা : মহাসপ্তমীর প্রথম সন্ধ্যেতেই শহরে বিপর্যয়। চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটেছে ১৯ জনের। আহত হয়েছেন ২৫ জন। ইতিমধ্যেই ঘটনার জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগানের পুজো। মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস ও আরজি করে নিয়ে আসা হয়েছে মৃত ও আহতদের। কয়েক ঘন্টা আগেই মেডিক্যাল কলেজে এসে পৌঁছেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গেই এসেছেন মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। বারবার চর্চায় উঠে আসছে ২০১৫ সালের দেশপ্রিয় পার্কের ঘটনার কথা। এবার এই শোকের আবহেই এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
একটি ভিডিয়োতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,“বৃষ্টি হয়েছিল। পর্যাপ্ত আলো ছিল না। ১৭ জন ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন। বাকি ২ জনের মৃত্যু পরে হয়েছে। ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জনের পরিবারের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তাঁরা আমাদের উপর আশ্বাস রেখেছেন। মৃতদের মধ্যে ২ জন বিহারের বাসিন্দা। মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ও গ্ৰুপ ডি-র সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে ও তাঁদের যাবতীয় চিকিৎসার খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। এমনকি তাঁরা যে হাসপাতালে বলবেন, সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা হবে।”
এমনকি এই ঘটনার তদন্তে বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠন করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি যাবতীয় অনুষ্ঠান স্থগিত করে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন,“আগামীকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের যাওয়ার কথা ছিল বেশ কিছু জায়গায়। বেলুড় মঠে যাওয়ার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সব ধরণের অনুষ্ঠান স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত কোনও রকম আনন্দ-উৎসব নয়। মায়ের পুজোকে বন্ধ করা যায় না কিন্তু সরকার কোনও রকম উৎসবে থাকবে না। পুজো কমিটি সচেতন হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। থিমের থেকে জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এই শোকের আবহে মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি না করার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়,“এই শোকের আবহে রাজনীতি করবেন না। সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। সেখানে যদি দেখা যায় সিপি কাজ করেননি, তাহলে তিনি পদত্যাগ করবেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এই ঘটনার থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি পুজো কর্তৃপক্ষগুলিকেও সতর্ক হতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ রাতেই হাসপাতাল থেকে চোরবাগান মণ্ডপের দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই তাঁর নির্দেশে আটক করা হয়েছে চোরবাগান পুজো মণ্ডপের ৫ উদ্যোক্তাসহ মোট ১০ জনকে। এমনকি যে ভলেন্টিয়াররা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে তৎপর হয়ে সম্পূর্ণ ঘটনার তদারকি করছেন এবং দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে।