
কলকাতা: পূর্বতন সরকারের আমলে একাধিকবার গৌতম আদানির (Gautam Adani) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বারবার সামনে এসেছে তাজপুর বন্দরের কথা। ফলপ্রসূ হয়নি কিছুই। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ রাজ্যে একাধিক প্রজেক্ট শুরু করার বার্তা এসেছে আদানিদের তরফ থেকে। তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল। TV9 বাংলার মেগা কনক্লেভে উপস্থিত হয়ে সেই শিল্পোন্নয়নের কথাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অর্থাৎ বিজেপির জয়ের পরের দিনই তাঁকে ফোন করেছিলেন গৌতম আদানি। বলেছিলেন, “কাল ১০ লাখ টাকার মিষ্টি বিতরণ করেছি।” বিজেপি জিতেছে বলে মিষ্টি বিতরণ নয়, আদানি বলেছিলেন, “আমরা আজ গর্বিত ভারতীয়। দেশ বেঁচে গেল।”
শুভেন্দু অধিকারী আদানিকে বাংলায় আমন্ত্রণ জানানোর কয়েকদিন পরই তিনি তাঁর ছেলে তথা আদানি গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার করণ আদানিকে পাঠিয়েছিলেন এ রাজ্যে। কথা হয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও।
বাংলায় একাধিক প্রকল্পে আগ্রহী আদানি গ্রুপ। TV9 বাংলার কনক্লেভে সেই সব প্রকল্পের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কল্যাণীতে গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট তৈরিতে আগ্রহী তারা। করণ আদানি আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্য সরকার টেন্ডার ডাকলে তাঁরা অংশ নেবেন। রাজ্য বাজেটেও এই এয়ারপোর্ট তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
১০ বছর ধরে মমতা তাজপুর পোর্টের কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটা কী হল! কী হবে? আদানির কাছে জানতে চেয়েছিলেন শুভেন্দু। করণ আদানি তাঁকে জানিয়েছেন, সরকারের কাছে জমি নেই। বন্দর তৈরি করতে গেলে রেল ও সড়ক সংযোগ লাগে, ওয়ার হাউস বানাতে হয়। তাই আদানিরা ছেড়ে দিয়েছেন। তাজপুর এখন ক্লোজড চ্যাপ্টার।
পরে আদানিরা সার্ভে করে ১০ কিমি দূরে দাদনপাত্রবাড়ে জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। ১৭০০ একর জমি আছে। সেখানেও টেন্ডারে অংশ নেবে আদানি গ্রুপ।
নিউ টাউনে জমি নিয়ে রেখেছে আদানিরা। শুভেন্দু অধিকারী জানান, করণ আদানি তাঁকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক হাসপাতাল বানাতে চাই।’ তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, তাতে দরিদ্র মানুষের কী উপকার হবে? আদানিরা জানান, ১০০০ বেড থাকবে গরিবের জন্য, টাকা নেওয়া হবে না। আর বাকি ১০০০ বেড কর্মার্শিয়ালি ব্যবহার হবে।