
কলকাতা: একসময় সিপিএম নেতা ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তৃণমূল বিধায়ক। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। সেই ঋতব্রতকে ‘কমিউনিস্ট আন্দোলনের’ কথা মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকে আপনার বক্তৃতা ছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো।” একইসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য সবার সাহায্য চাইলেন শুভেন্দু।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর পর বক্তৃতা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ঋতব্রতর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলনেতা। আজকে আপনার বক্তৃতা ছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো। পশ্চিমবাংলার বিরোধী দলনেতার মতো বক্তব্য ছিল না। আপনার মস্তিষ্কে কার্ল মার্কস আর হৃদয়ে লেলিন অথবা মাও দে জং আছে। যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া কবি বলেছিল, তাঁদের থেকে উপদেশ নেব না। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ- অবনীন্দ্রনাথের বাড়ি আক্রান্ত বললেন না কেন? সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি আক্রান্ত বললেন না কেন? অসংখ্য তালিকা আছে।”
গত ৫ বছর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ছিলে,ন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে জানিয়ে ঋতব্রতর উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “আপনার নামে কতগুলো মামলা রয়েছে?” এদিন নিজের বক্তব্যের শেষে বিরোধীদের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। চাকরি দিতে হবে। শিল্প আনতে হবে। নারী সুরক্ষা দিতে হবে। আমরা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করব। দেখতে থাকুন। সহযোগিতা করুন। ‘আপনাদের সরকার, আপনাদের পাশে’-র যে হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে, সেটা সবার কাছে পৌঁছে দিন।”
এদিকে, এদিন বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন শুভেন্দু। সেইসময় ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল বিধায়করা বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যান। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল। আসল দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল। আপনাদের এই দৈন্যদশার জন্য আমরা দায়ী নয়। আপনারাই দায়ী।”
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এদিন দুর্নীতি নিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কোনও চোর ছাড়া পাবে না।” তখন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “তদন্ত করুন। পূর্ণ সমর্থন করি । তবে ভালো সাজতে যাচ্ছে যাঁরা, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হলে দোষ থাকলে শাস্তি দেবেন।” সেকথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঋতব্রত, সন্দীপনদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তথ্য দেবেন। তদন্ত হবে।”