
কলকাতা: তিনি ভবানীপুরের বিধায়ক। হারিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে তাঁর কোথায় পার্থক্য, শনিবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন আলিপুরের ধনধান্য স্টেডিয়ামে আলিপুর নাগরিক সমিতির তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী খোঁচা দেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে শিল্পায়ন এগিয়ে আসতে এদিন সবাইকে আহ্বান জানান শুভেন্দু। বললেন, “রাজ্যে ধীরে ধীরে শিল্পের বিকাশ ঘটাব আমরা।”
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
ধনধান্য স্টেডিয়ামে এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। যখন আপনাদের চা চক্রে গিয়েছিলাম, তখন আপনারা অনেকেই বুঝেছেন কিন্তু নিশ্চিন্ত হননি যে বিজেপি এবার ক্ষমতায় আসছে। অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত করার পর কিছুটা হলেও মনে সাহস এসেছে। সকাল সকাল বেরিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রের মানুষেরা ভোট দিয়েছেন। মানুষ ভেবেছিলেন, হারলে হবে না এবার। না হলে এ রাজ্যে থাকা যাবে না। মানুষের সমর্থন আমি পেয়েছি।”
২ মাস এখনও হয়নি সরকার গঠন হয়েছে। সেকথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “অর্থনৈতিক ভারসাম্য ঠিক রাখার প্রয়োজন রয়েছে। বাজেটে যেগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে প্রণয়ন করা সবার আগে কাজ। দেশের সুরক্ষার জন্য আমরা সরকারের এসে বিএসএফকে জমি দিয়েছি। বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা শুভেন্দুর-
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন, ‘আমি সব জানি’। কিন্তু আমি বলি, আমি কিছুটা জানি। কিন্তু সবটা জানি না। এটাই পার্থক্য।” পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এখানে ভারতীয় ন্যায়সংহিতা ছিল না। সেটা চালু হয়েছে। সেন্সাসের কাজ শুরু করেছি আমরা, যেটা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।” গুন্ডা দমন বিল পাশের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যে যার ধর্ম পালন নিয়ে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “সবাই নিজের ধর্ম পালন করুন। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে নয়।” অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুটো আইন থাকবে না রাজ্যে। এক দেশ এক আইন প্রতিষ্ঠা হবে।”
রাজ্যে ব্যবসা নিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর-
ব্যবসায়ীদের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা বারবার আপনাদের বলত, শিল্প বন্ধ করবে। ব্যবসা করতে দেবে না। সেসব বন্ধ। এক কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করলে তিন কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে। বিধানসভায় সেই বিল পাশ হয়েছে। চিংড়িঘাটা মেট্রো-সহ সবটাই আগামী দিনে উন্নত হবে। জোকা থেকে এয়ারপোর্ট সরাসরি যুক্ত হবে। চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজ ১৭ দিনে সম্পন্ন হয়েছে। কলাইকুন্ডা এয়ারপোর্টে জমি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্ত এলাকা উন্নত করার জন্য ইতিমধ্যেই জমি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালকে আরও উন্নত করতে চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ হবে।”
তৃণমূল আমলে বিশ্ববাংলা বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, “বিজিবিএস-র ফাইল আমি পড়েছি। একটা সরকার যে এত মিথ্যা কথা বলতে পারে, না দেখলে বুঝতে পারবেন না। কয়েক কোটি টাকা নষ্ট করা হয়েছে বিজিবিএস করার জন্য। আমি হাতে নথি নিয়ে বলছি। ঠিক সময় ঠিক তথ্য সামনে আনব। একটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট রয়েছে, আমি তার নাম নেব না। তাহলে সে হিরো হয়ে যাবে। সব টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু শিল্প হয়েছে কিন্তু সেটা জমি দেওয়া হয়েছে বাম আমলে।”
ব্যবসায়ীদের রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিল্পের প্রয়োজন আছে। এগিয়ে আসুন। শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলুন। ধীরে ধীরে শিল্পের বিকাশ ঘটাব আমরা এ রাজ্যে।”