
কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বিদ্যুৎ শুল্ক থেকে শুরু করে ইপিএফ…নয়া শিল্পনীতিতে রাজ্যের শিল্পের ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আর শিল্পনীতি ঘোষণার দিনই সিঙ্গুর (Singur) নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, সিঙ্গুর নিয়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে গত ১৫ বছর রাজ্যে শিল্প আসেনি বলে বারবার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি(BJP)। রাজ্যে পালাবদলের পর এই শিল্প ক্ষেত্রেই রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। শিল্পেও জোয়ার আসুক, চাইছে বাংলা। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি বাংলায় শিল্প ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। তা বারবার মুখ্যমন্ত্রী থেকে শিল্পমন্ত্রী, প্রত্যেকের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে। লগ্নিও এসেছে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে। এবার নতুন শিল্পনীতি নিয়ে এসেছে বিজেপি। তবে, বারবার একটাই প্রশ্ন উঠে এসছে, সিঙ্গুরের জন্য কি কোনও পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি সরকারের? এবার তার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিঙ্গুর নিয়ে কিছু পরিকল্পনা আছে? সেই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ করব। সেই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু একটা করব।” প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ফের গাড়ি শিল্পই হতে চলেছে সিঙ্গুরে?
সিঙ্গুরের শিল্পায়ন বিতর্ক বাংলার রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে হুগলির সিঙ্গুরে প্রায় ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগে রাজ্যে ছোট গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়। কিন্তু কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন একাংশের কৃষক। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনশনও শুরু করেন তিনি। টানা ২৬ দিন অনশনের পর তা প্রত্যাহার করেন মমতা।
২০০৮ সালের অগস্টে সিঙ্গুরে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতির জেরে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টাটা মোটরস কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয়। অবশেষে ৩ অক্টোবর ২০০৮ সালে সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রতন টাটা। পরে গুজরাটের সানন্দে গড়ে ওঠে ন্যানো কারখানা। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসে সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তৃণমূল সরকার। কিন্তু, উর্বরতা না থাকায় সেই জমিতে চাষ হয়নি। শিল্পও আসেনি। নতুন সরকারের আমলে শিল্পের আশায় বুক বেঁধেছে সিঙ্গুরবাসী। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা নতুন আশা জোগাচ্ছে।