
কলকাতা: বিধানভায় বামেদের ‘শূন্য’-এর গেরো কেটেছে তাঁর দৌলতে। বামেদের একমাত্র বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা (Mostafizur Rahman Rana)। এবার সেই রানা-ই মুখ খুললেন সিপিএম (CPIM)-এর বিরুদ্ধে? সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন বাম বিধায়ক। যার ছত্রে ছত্রে সিপিএম বিরোধী সুর। যদিও পরে সেই পোস্ট (Mostafizur Rahman Rana Social Media Post) ডিলিটও করে দেন তিনি। এখন প্রশ্ন উঠছে, কাদের উদ্দেশে কেন-ই বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন, আবার ডিলিটও বা করলেন কেন?
শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন মোস্তাফিজুর । তাতে লেখা ছিল, “বেশি জ্ঞান না দিয়ে নিজের নিজের বুথগুলো দেখেন বিপ্লবী কমরেড-রা। নিজেদের বুথে যে আপনি cpim, এটা মানুষ জানে তো???? তার পর সমালোচনা করবেন। আর আমি এবার ভোটে আমার গ্রামে ৩৫০ ভোট লিড দিয়েছি। একদম স্বাভাবিক ভোট হয়েছে।” পোস্টে স্পষ্ট সিপিএম বিরোধী সুর। ভোটের রেজাল্টের পর বেসুরো হতে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন তৃণমূল নেতাদের। দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে দল। মমতার হাত ছেড়ে একে একে বেসুরো হয়েছেন ফিরহাদ, মদনের মতো মমতা ঘনিষ্ঠ নেতারা। এবার কি সিপিএম-এর মোস্তাফিজুর রানাও বেসুরো? কাদের উদ্দেশে এই পোস্ট করেছিলেন তিনি? আবার কেনই-বা ডিলিট করলেন?
মোস্তাফিজুর রানা বলেন, “ফেসবুকে কিছু আমাদের বিপ্লবী রয়েছেন। যাঁদের জনগনের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ থাকে না। সেটার জন্যই পোস্ট করেছিলাম। এটা ঠিক যে আমি দলের যে স্তরে রয়েছি ওইভাবে প্রকাশ্যে পোস্ট করা উচিত হয়নি। সেই কারণেই পোস্টটি আবার ডিলিট করে দিয়েছি।”
সূত্রের খবর, একটি টেলিভিশন শো-তে যাওয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার পরই ট্রোলের শিকার হন মুস্তাফিজ়ুর। বাম মনস্ক বহু মানুষ এই নিয়ে কটাক্ষ করেন বিধায়ককে। তার জবাব দিতেই রানা পোস্টটি করেছিলেন বলে সূত্রের খবর।
বিধায়ক রানা-র পোস্ট নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়েছে বাম। এই বিষয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “কারও কোনও কথা থাকতেই পারে। সেই কথা কখন বলবেন, কোথায় বলবেন, কাকে বলবেন, সেটা নিশ্চয় তখন ভাবা যাবে।”
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সত্যি কথাটা বলেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আজকে বাংলার মানুষ, ভারতবর্ষের মানুষ সিপিএম-কে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। তো সেখানে সমস্ত ভালো কাজকে আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
মোস্তাফিজুরের অভিমান শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বঘোষিত বাম সমর্থকদের জন্য নাকি অন্দরের কোনও ক্ষোভ ঠিকরে বের হল? এই বিষয়ে স্পষ্ট বিধায়ক রানা কিছু না বললেও জল্পনা তো রয়েই গেল।