
কলকাতা: কৌটা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া। সিপিএমের এই ভাবে নির্বাচনী তহবিল গড়ার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। এই ছবি পথে ঘাটে বিভিন্ন সময় ধরা পড়েছে। সেই সংস্কৃতি বদলে ‘আধুনিক’ হয়ে উঠছে সিপিএম। চাঁদা তুলতে ডিজিটাল প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করছে এই বাম দল। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে প্রচারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে ডিজিটালি চাঁদা তোলার পথে হাঁটল তারা। শুক্রবার সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন সেলিম একটি কিউআর কোড দেন। কিউআর কোড স্ক্যান করে সাহায্যের আবেদন করেন। তিনি লেখেন, “আসন্ন রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রচারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। নির্বাচনী তহবিলে অর্থ দান করে সাধ্যমতো পাশে থাকুন।” সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলিমের ওই পোস্টে অনেকে কটাক্ষ করে কমেন্ট করেছেন। অনেকে আবার জানিয়েছেন, তাঁরা সামর্থ্য মতো সাহায্য পাঠালেন।
কয়েকমাস আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও ডিজিটালি চাঁদা তুলেছিল সিপিএম। সেই সিপিএম-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আগে কিউআর কোড ছিল না। আমরা বরাবরই জনগণের কাছ থেকে টাকা তোলার পরিপন্থী। অনেকেই আছেন যাঁরা দলকে টাকা দিতে চান, বিশেষ করে এই টাকা চেনা পরিচিতরাই দিয়ে থাকেন। দূরে দূরে যাঁরা আছেন তাঁরা কীভাবে টাকা দেবেন? কিউআর কোডে সুবিধা।” তবে তিনি জানিয়েছিলেন, “যাঁরা এই টাকা দেন, তাঁরা সকলেই চেনা পরিচিত বা বন্ধু কিংবা পার্টির সমর্থকরা। আমাদের তো আর ইলেকট্রোরাল বন্ড নেই। বামেরা মানুষের উপর নির্ভর করে।”
সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষও সেইসময় বলেছিলেন, “আমরা কৌটো নাচিয়ে টাকা সাধারণ মানুষের সামনেই তুলেছি। তৃণমূলের মতো চুরি করিনি। হাত পেতে চুরি করিনি।” বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার উপনির্বাচনেও নির্বাচনী তহবিলের জন্য সেই ডিজিটাল প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করলেন সেলিমরা।