
কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ট্রেন্ডটা শুরু হয়েছিল। সোনারপুরে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিগৃহীত হতে হয়েছিল তাঁকে। জনরোষ আছড়ে পড়েছিল তাঁর ওপর। প্রচুর ডিম ছোড়া হয়েছিল বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝ থেকে। ভোট পরবর্তী নতুন বাংলায় এটাই ‘ডিম থেরাপি’র প্রথম এপিসোড। তা এখন সংক্রমণের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেই অধ্যায়ের নবতম সংযোজন দেবরাজ চক্রবর্তী।
এ বার দেবরাজ চক্রবর্তীকে লক্ষ্য করেও চলল ডিম-বর্ষণ। যদিও ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের গায়ে ডিম পড়েনি। সেই ডিম গিয়ে পড়ল পুলিশের গাড়িতে। হলদে হল পুলিশের উর্দি। নোংরা হল পুলিশের গাড়ি। থানার থেকে বার করার সময়েই ‘অ্যাটাক’। দেবরাজকে যতটা সম্ভব ঘিরে রেখেছিলেন পুলিশ কর্মীরা। দেবরাজকে দেখা মাত্রই উঠল রব, সঙ্গে ধেয়ে আসতে থাকে একের পর এক ডিম। উত্তেজনার মাঝেই মাথায় টুপি পরে বারাসত আদালতের ভিতরে ঢুকে যান দেবরাজ।
দেবরাজকে আগলাতে গিয়ে ‘সফট কর্নার’ হয়ে যান পুলিশ কর্মীরাও। পুলিশের কাজ অপরাধীকে জনরোষের হাত থেকে রক্ষা করা। তাই অভিষেক হোন কিংবা দেবরাজ, সব ক্ষেত্রেই পুলিশকে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে পুলিশকে। আর ক্ষুব্ধ জনতার ডিম-বর্ষণ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এসে লাগছে পুলিশ কর্মীদের গায়েই। উর্দিতে লাগে ডিমের কুসুমের দাগ। সঙ্গে পচা ডিমের উৎকট গন্ধও।
এমনও ছবি ধরা পড়ে, অতর্কিতে ডিম এসে লাগতেই সহকর্মীর পোশাক রুমাল দিয়ে মুখে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন আরেক পুলিশ কর্মী। সেই পোশাকেই সারাদিন ডিউটিতে অবিচল পুলিশ কর্মীরা।
ইতিমধ্যেই এই ডিম বর্ষণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। আদালত জানতে চেয়েছে, যাঁরা ডিম ছুড়ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? ক’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ্যের কাছে হলফনামা তলব করেছে আদালত। রাজ্য পুলিশকেও এদিন দেখা গেল, যথাসাধ্য চেষ্টা করতে, যাতে জনরোষের হাত থেকে অভিযুক্তকে রক্ষা করতে। তাই সমস্ত ‘আঘাত’ লাগল তাঁদেরই গায়ে।