
কলকাতা: কলকাতা পুরনিগমের আসন পুনর্বিন্যাসের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ডিসেম্বরে ভোটের আগেই সেই ডিলিমিটেশন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, কোনও তাড়াহুড়ো করে নয়, শহরকে ছোট ছোট ওয়ার্ডে ভাঙার কাজ সময় নিয়ে, নিয়ম মেনেই করা হবে।
জানা যাচ্ছে, কলকাতার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে। ১৪৪ থেকে ৬৫টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ২০৯ টি ওয়ার্ড তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য। খসড়া প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, এখনই কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতর। নির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই এগোতে চাইছে কলকাতা পুরসভা। ইতিমধ্যেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরে। যেখানে বলা হয়েছে কলকাতায় মোট ২০৯ টি ওয়ার্ড হতে চলেছে।
কসবা বিধানসভা ৬টি ওয়ার্ড থেকে বেড়ে ১৭টি করার প্রস্তাব।
যাদবপুরে ১০ থেকে ওয়ার্ড বেড়ে ১৬টি করার প্রস্তাব।
টালিগঞ্জে ওয়ার্ড সংখ্যা ৯ থেকে বেড়ে ১৪টি করার প্রস্তাব।
বেহালা পূর্বে ১১ থেকে ১৬টি করার প্রস্তাব।
বেহালা পশ্চিমে ১০ থেকে ১৭টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব।
মেটিয়াবুরুজে ৬ থেকে ৮টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব।
কলকাতা পোর্টে ৬ থেকে ১১টি করার প্রস্তাব।
বালিগঞ্জে ৭ থেকে ১২টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব।
এন্টালিতে ৫ থেকে বাড়িয়ে ১১টি করার প্রস্তাব।
বেলেঘাটায় ৬ থেকে ১২টি করার প্রস্তাব।
মানিকতলায় ৬ থেকে ১১টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব।
কাশীপুর-বেলগাছিয়ায় ৬ থেকে ১১টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব।
তবে সব জায়গায় ওয়ার্ড বাড়ছে না। চৌরঙ্গী, জোড়াসাঁকো এবং শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রে বর্তমানে ১১টি করে ওয়ার্ড থাকলেও, প্রাথমিক খসড়ায় তা কমিয়ে ৮টি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস শেষ না করে পুরসভা নির্বাচনে কি যাবে প্রশাসন? এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও রাজ্যের পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন ভোট নির্দিষ্ট সময়েই হবে।
প্রাথমিক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার রাখার লক্ষ্যেই এই পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য বজায় থাকে।
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতার কোনও ওয়ার্ডে ৮০ হাজার ভোট আছে, আবার কোনও ওয়ার্ডে ১১ হাজার ভোটার আছে। সমানভাবে ভাগ নেই। সরকার যদি এটা সঠিকভাবে করে তাহলে ভালো হয়।” অন্যদিকে, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ব্যাখ্যা, এমন এক একটা ওয়ার্ড আছে, যা আকারে অনেক বড়, কোনওটা খুব ছোট। অথচ কাউন্সিলর একই টাকা পায়। সে ক্ষেত্রে উন্নয়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।