
কলকাতা: সবথেকে বড় দুর্গা তৈরি করে ২০১৫ সালে গোটা রাজ্যকে চমকে দেওয়া দেশপ্রিয় পার্কের পুজো ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং একরাশ বিতর্ক। ২০১৫ সাল। ৮৮ ফুট উচ্চতার দুর্গা মূর্তি। সব চেয়ে বড় দুর্গা। ভিড়ের চাপে সপ্তমীর রাতে পুজোয় দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ। রাসবিহারী মোড় থেকে গড়িয়াহাট স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল যান চলাচল। লালবাজার থেকে নিকটবর্তী চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশনে নেমে কালীঘাট মেট্রো হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার।
কেটে গিয়েছে ১১ বছর। ২০২৬ সালে ফের বিতর্কে দেশপ্রিয় পার্কের পুজো। যে পুজোর পোশাকি নাম বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। ৮৮ পেরিয়ে এবার পুজো পা রাখতে চলছে ৮৯ বছরে। গত ২৮ জুন ঘটা করে হয়েছে খুঁটি পুজো। উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, লিয়েন্ডার পেজের মতো তারকা। কাল্পনিক বৌদ্ধ বিহারের আদলে ৭০ ফুট উঁচু মণ্ডপ তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল। এরইমধ্যে ছন্দ পতন। রাতের অন্ধকারে প্রায় ৪০ – ৫০ জন বহিরাগত নির্মীয়মান এই মণ্ডপ ভেঙে দিয়ে গেছে বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা দেখেন, মণ্ডপের একাংশ ভাঙাচোরা। রাতেই দুষ্কৃতী তাণ্ডব হয়েছে বলে অভিযোগ। এক এলাকাবাসী বলেন, “খুঁটি পুজোর পর থেকেই পুজোর সমস্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এরকমটা হতে পারে, কেউ দুঃস্বপ্নও ভাবেনি। প্রশাসন বিষয়টা দেখুক।”
দুর্গোৎসব সমিতি জানিয়েছে, , প্রায় ৮৮ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি, যা দেশপ্রিয় পার্ক দুর্গোৎসব নামেই অধিক পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার অন্যতম প্রধান শারদোৎসবের আয়োজক। পাড়ার একটি ছোট উদ্যোগ থেকে শুরু করে আজ তা আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিতি লাভ করেছে।