
কলকাতা: রাজ্য জুড়ে এখন চর্চায় শুধু ডিম। খাবারের পাতে যত না ডিম পড়ছে, তার থেকে বেশি ডিম অন্য কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে। ভালো ডিমের বদলে এখন পচা ডিমের চাহিদাই বেশি। এত যখন ডিম নিয়ে চর্চা, তখন এই প্রশ্নটা মনে জাগা স্বাভাবিক যে মুরগি দিনে কটা করে ডিম পাড়ে? কোন ডিমে একটা কুসুম থাকে, কোনটায় জোড়া কুসুম, সেটাই বা কী করে বুঝবেন?
সাধারণত একটি সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুরগি দিনে একটি ডিম পাড়ে। একটি মুরগির শরীর সম্পূর্ণ একটি ডিম তৈরি করতে প্রায় ২৪ থেকে ২৬ ঘণ্টা সময় নেয়। তাই একটি মুরগির পক্ষে দিনে ১টির বেশি ডিম পাড়া স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। ভালো জাতের মুরগি বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে।
পোলট্রির (Poultry) ডিম উৎপাদনকারী মুরগি, যাদের সাধারণত ‘লেয়ার মুরগি’ (Layer Chickens) বলা হ., তাদের ডিম পাড়ার ক্ষমতা সাধারণ দেশি মুরগির চেয়ে অনেক বেশি হয়। তবে পোলট্রির মুরগিও দিনে একটির বেশি ডিম পাড়তে পারে না। কারণ একটি মুরগির শরীরে ডিম তৈরি হতে বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রায় ২৪ থেকে ২৬ ঘণ্টা সময় লাগে।
একটি ভালো জাতের লেয়ার মুরগি বছরে প্রায় ৩০০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত ডিম দেয়।
মুরগির বয়স যখন প্রায় ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৪ মাস হয়, তখন থেকে তারা ডিম দেওয়া শুরু করে। বয়স ২৬ থেকে ৩০ সপ্তাহ হলে, তারা সবচেয়ে বেশি ডিম পাড়ে। এই সময়ে ফার্মের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ মুরগি প্রতিদিন একটি করে ডিম দেয়।
কতদিন ডিম দেয়: পোলট্রিতে একটি মুরগিকে সাধারণত ৭২ থেকে ৮০ সপ্তাহ অর্থাৎ প্রায় দেড় বছর বয়স পর্যন্ত ডিম দেওয়ার জন্য রাখা হয়। এরপর তাদের ডিম পাড়ার হার কমে গেলে, মাংস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
মুরগি যেহেতু দিনে একটা ডিম পাড়ে, তাই কুসুমও একটা হওয়াই স্বাভাবিক। তবে খুব বিরল কিছু ক্ষেত্রে মুরগির হরমোনের তারতম্যের কারণে একই দিনে দুটি ডিম পাড়তে পারে। তবে এটি নিয়মিত ঘটে না এবং এমন ডিমে প্রায়ই দুটি কুসুম (Double yolk) দেখা যায়।