
কলকাতা: তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ় করল নির্বাচন কমিশন। আপাতত রাজ্যের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে লড়াই করতে পারবে না তৃণমূলের দুই শিবির। অন্য প্রতীকে লড়তে হবে। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামও ব্যবহার করা যাবে না। বেছে নিতে হবে বিকল্প নাম। অন্তর্বর্তী নির্দেশে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, কে আসল তৃণমূল, শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে নাম-প্রতীক…এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। আজ, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের দুই শিবিরকেই ডেকে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের জবাব কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে ছিল সব মহল। অবশেষে অন্তর্বতী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল কমিশন।
উপনির্বাচনে এবার কোন প্রতীকে লড়বে তৃণমূলের দুই শিবির? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে প্রস্তাবিত নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিতে হবে দুই শিবিরকে। প্রত্যেক পক্ষকে তিনটি বিকল্প ও পছন্দের নাম নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল শব্দ ব্যবহার করে নাম দিতে পারবে দুই পক্ষ। তবে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই।
অন্তর্বর্তী নির্দেশে কী বলেছে নির্বাচন কমিশন?
উল্লেখ্য, দলের প্রতীক জোড়াফুল চিহ্ন নিজের হাতে এঁকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রতীকই এখন তাঁর হাতে রইল না। ১৯৯৮ সালের পর পথ চলা শুরু হয়েছিল তৃণমূলের। ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট হবে জোড়াফুল চিহ্ন ছাড়াই।
এই বিষয়ে কালীঘাট পন্থী তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী জানান, কমিশনের নির্দেশের কথা তিনি শুনেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটে লড়বেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত দলের উপরেই ছেড়ে দিচ্ছেন রবিউল। তবে নিজেও এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করবেন বলে জানান। অন্যদিকে, ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ বলেন, “লড়াই করার জন্যই নেমেছি। লড়াই করব। তবে সর্বোপরি দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলব।”