
কলকাতা: ‘কলকাতাই আমার দেশ, কলকাতাই আমার সব।’ সেই কলকাতাতেই এবার পাকাপাকিভাবে থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন কবি ও সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। দীঘ ২০ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে অগস্টেই কলকাতায় পা দিয়েছিলেন। পুজোর আগে ফের শহরে তসলিমা। গতকাল, বৃহস্পতিবার শহরের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কলকাতায় আবার আসতে পেরে ও শহরবাসীর ভালবাসায় আপ্লুত তিনি। আবারও কলকাতায় পাকাপাকিভাবে থাকতে চান তিনি। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ জানিয়ে বলেন, নিজের দেশ বাংলাদেশে ফিরতে পারেন না। কলকাতাকেই নিজের দেশ বলে মনে করেন। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় থাকার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করবেন তিনি।
কলকাতার প্রতি তাঁর টান কতটা, তা বোঝাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তসলিমা। টিভি৯ বাংলাকে তিনি বলেন, “কলকাতা এলে মনে হয় আমি নিজের শহরে এসেছি, নিজের দেশে এসেছি। দেশকে তো পাই না ৩২ বছর। কলকাতাই আমার দেশ, কলকাতাই আমার সব।”
বাংলার টানেই একসময় ইউরোপ ছেড়ে এসেছিলেন বলে জানান লেখিকা। কিন্তু কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকতে না পারার আক্ষেপ এখনও রয়েছে তাঁর। তসলিমার কথায়, “বাংলার জন্য প্রাণের টানে ইউরোপ ছেড়েছিলাম। এখনও সেই কষ্টটা রয়েছে। কলকাতায় থাকা হল না। তবে জীবনের বাকি বছর যদি থাকতে পারি, তাহলে জীবন সার্থক। কলকাতা ঘুরে ঘুরে দেখব।”
কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “পাকাপাকি থাকার পরিকল্পনা যদি আমি করি, তা তো হবে না। যদি সরকার রাজি থাকে তাহলে আমি নিশ্চয়ই থাকব। সরকারকে সেই আর্জি জানাব।”
কলকাতার মানুষের কাছ থেকে যে ভালবাসা পেয়েছেন, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান বলেও জানান লেখিকা। বলেন, “কলকাতাবাসীর থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, যা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এগুলোই আমার প্রেরণা।”
নিজের দেশ বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্বাসিত লেখিকা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। মৌলবাদীদের প্রভাব আগের তুলনায় আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তসলিমার কথায়, “বাংলাদেশ আরও খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছে। মৌলবাদীরা যেমন ভয়ঙ্কর ছিল, এখন বেশি ভয়ঙ্কর হয়েছে।”
জেন জি (Gen Z) আন্দোলন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তসলিমা। তাঁর দাবি, এই ধরনের আন্দোলনের আড়ালে উগ্রপন্থী শক্তি সক্রিয় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশে অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই তিনি এই আন্দোলনগুলিকে সহজে বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
বামপন্থীরা কেন বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের আন্দোলনকে সমর্থন করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তসলিমার বক্তব্য, বাংলাদেশে অভিজ্ঞতার পর জেন জি আন্দোলনকে সমর্থন করতে তিনি ভয় পাচ্ছেন। তাই এই মুহূর্তে জেন জি আন্দোলনের পক্ষে নেই তিনি।