
কলকাতা: শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। দিন কতক আগেই নারকেলডাঙায় ঝুপড়িতে আগুন লেগে নিঃস্ব হয়েছিল সব। পুড়েখাক হয়েছিল একের পর এক ছাউনি ঘর। মৃত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তিরও। এবারও খাস কলকাতা ফের ঘটল একই কাণ্ড। জ্বলে গেল গোটা বাড়ি।
ঘটনা সল্টলেকের ‘ডিএ’ ব্লকের। সোমবার রাতের দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেই এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে। পুড়ে যায় বাড়ির একাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেই দিকে ছুটে যায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। আগুনের গ্রাসে পড়ে যায় সেই বাড়ির কর্তা বছর ৪৭-এর দেবর্ষি গাঙ্গুলি। মৃত্যু হয় তার।
কিন্তু কীভাবে লাগল আগুন? সেই প্রশ্নের উত্তর অধরাই দমকল বাহিনীর কাছে। তবে প্রাথমিক অনুমান, সিগারেটের ছাই থেকেই ঘরের অন্দরে আগুন লাগে। আর তাতেই সব শেষ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুও।
তবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-পরিজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সময়মতো দমকলকে ফোন করা হলেও, তারা আসতে অনেকটাই দেরি করেছে। এই অভিযোগের প্রসঙ্গে অবশ্য মুখ খুলেছেন খোদ সুজিত বসু। অভিযোগ নস্যাৎ করেননি তিনি। বরং, তার বদলে দিয়েছেন অন্য যুক্তি।
দমকলমন্ত্রীর দাবি, এটা যেমন ঠিক যে সময়মতো দমকলকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির জেরেই দেরি হয় তাদের। ঘটনা ঘটেছে ‘ডিএ’ ব্লকে, দমকলকে বলা হয়েছে ‘বিএ’ ব্লকে আসতে। আর এই ঠিকানা বিভ্রান্তির জেরেই হাতের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি।
ইতিমধ্যে, সেই অগ্নিদ্বগ্ধ বাড়ি উদ্ধার হয়েছে আগুনে পুড়ে কঙ্কালসাড় হওয়া মৃতদেহটি। গোটা ঘটনার কূলকিনারা বের করতে এলাকায় পৌঁছেছে উত্তর বিধাননগর থানা। আজই আবার নমুনা সংগ্রহে ঘটনাস্থলে আসবে ফরেন্সিকের একটি টিমও।