
কলকাতা: ছিলেন বিডিও। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, আরও কীর্তি রয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়ে কীভাবে তিনি বিডিও হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। খুনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অবশেষে পুলিশের জালে রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ (Prasanta Barman)। কলকাতার রাস্তা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। একইসঙ্গে ‘গুণধর’ প্রশান্ত বর্মণের (Prasanta Barman Detained) কীর্তির তালিকা আরও লম্বা হল। কলকাতার রাস্তায় মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এবার এক পথচারীকে ধাক্কা মারারও অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরই গতকাল রাতে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের অভিযোগে প্রশান্ত বর্মণকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান ওই প্রাক্তন বিডিও। কিন্তু, সর্বোচ্চ আদালতও তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু, দেখা যায় তারপর থেকেই পলাতক ছিলেন এই প্রাক্তন বিডিও। সম্প্রতি চার্জশিটে মূল অভিযুক্ত ফেরার বলে উল্লেখ করেছিল পুলিশও। সেই পলাতক, গুণধর প্রাক্তন বিডিও-রই দেখা মিলল কলকাতায়, নিউটাউনের রাস্তায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি দামী কালো গাড়িতে বসে রয়েছেন প্রশান্ত। যে ব্য়ক্তি ভিডিয়ো করছেন, তাঁকে থামাতেও যান। ভিডিয়ো বন্ধও করতে বলেন। হুমকি দিতেও শোনা যায়। ভিডিয়ো করার সময় ওই ব্যাক্তি অভিযোগ তোলেন, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেইসময়ই তাঁর গাড়ি এসে ধাক্কা মারে এক পথচারীকে। তারপরই ওই পথচারী ছিটকে এসে তাঁর স্কুটারের উপর গিয়ে পড়েন। পায়ে গুরুতর চোট পান ওই পথচারী। ঘটনার পরই প্রশান্ত বর্মণের গাড়ি আটকে ভিডিয়ো করেন ওই ব্যক্তি।
মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর তাঁকে আটক করে নিউটাউন থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, গতকাল রাতের ঘটনাতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা এখনও (প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত) জানা যায়নি। এই বিষয়ে এখনও পুলিশের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।