
কলকাতা: গ্রেফতার করা হল বাংলা পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা তথা সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে। মঙ্গলবার সকালে দেশপ্রিয় পার্ক এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল। গর্গকে গ্রেফতারের সময় তাঁর পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (PSO)-র কাছ থেকে ২৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কলকাতা উত্তরের ডিইও-র অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন গর্গকে গ্রেফতার করা হয়।
কী অভিযোগ গর্গের বিরুদ্ধে?
কয়েকদিন আগে বাংলায় ভোট-পর্ব মিটেছে। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। সেইসময় গর্গ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইভিএম হাতবদল হয়েছে। মিথ্যে তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে গর্গের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতা উত্তরের ডিইও স্মিতা পান্ডে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই এদিন সকালে গ্রেফতার করা হয় গর্গকে।
গর্গের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ বলেন, “কলকাতা উত্তরের ডিইও-র অভিযোগের ভিত্তিতে দু’বার ডাকা হয়েছিল। আসেননি। তাই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা বারুইপুর পুলিশ জেলার একজন পুলিশকর্মী ছিলেন। তাঁর কাছে থেকে কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। গর্গের কাছ থেকে কোনও কার্তুজ পাওয়া যায়নি। এর আগে একটা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ছিল। সেই মামলাতেও শোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে গর্গকে।”
কে এই গর্গ?
বাঙালির কাছে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচিতি বাংলা পক্ষকে ঘিরে। ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি বাংলা পক্ষ প্রতিষ্ঠা করেন। বাঙালিদের অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতির সুরক্ষার জন্য লড়াইয়ের কথা বলে বাংলা পক্ষ। বাংলায় সরকারি চাকরিতে বাংলার বাসিন্দাদের জন্য ১০০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানায় বাংলা পক্ষ। এবং অন্য ক্ষেত্রগুলিতে বাংলার বাসিন্দাদের জন্য ৯০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি তাদের।
গর্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেছেন। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। গর্গের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতার কথা প্রায়ই শোনা যায়। এর আগে ২০২২ সালে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০২০ সালের জুনে অহোম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল গর্গের বিরুদ্ধে। অসমের একাধিক জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেইসময় আদালত ২ বার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। অভিযোগ ওঠে, বাংলার তৎকালীন সরকারের অসহযোগিতায় গর্গকে প্রথমে গ্রেফতার করা যায়নি। পরে আদালত নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে গর্গকে গ্রেফতারের জন্য কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিল। তারপরই গ্রেফতার করা হয়েছিল গর্গকে। পরে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক।