
কলকাতা: দু’জনেই রাজ্যের শাসকদলের বিধায়ক। তার মধ্যে একজন মন্ত্রী। সেই মন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েও দেখা করতে পারেননি বলে স্পিকারের কাছে নিজের অভিমানের কথা জানালেন বিজেপি বিধায়ক। কিন্তু, তারপরই অন্য একটি দৃশ্য দেখল বিধানসভা। স্বয়ং বিধানসভার পরিষদীয় মন্ত্রী বিজেপি বিধায়ককে নিয়ে গিয়ে বসালেন মন্ত্রীর পাশে। তারপরই বিজেপি বিধায়ক আর মন্ত্রী আলোচনায় মগ্ন হয়ে গেলেন। এক মুহূর্তে অভিমান ভুলে গেলেন।
শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বসু ময়নাগুড়ির বিধায়ক ডালিমচন্দ্র রায়কে বলার সুযোগ দেন। ময়নাগুড়ি থেকে প্রথমবার জিতে বিধায়ক হয়েছেন ডালিমচন্দ্র রায়। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের একটা গ্রাম্য এলাকা থেকে আমি এসেছি। ওখানে সারের ব্যবহার বেশি। সারের বস্তায় যে দাম লেখা থাকে, তার থেকে ২০০-৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হয়। এর সঙ্গে আরও কিছু জোড়া হয়। আর সেই বোঝা চাপে কৃষকের উপর।” এরপরই কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের কথা টেনে ডালিমচন্দ্র রায় বলেন, “এই নিয়ে কথা বলার জন্য কৃষিমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছিলাম। উনি আমাকে সময় দেননি। তাই, স্পিকারকে কথাটা বলছি।”
বিধানসভায় মন্ত্রীদের বেঞ্চে তখন বসে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। তাঁর সামনেই মন্ত্রীর নামে অভিযোগ। সকলেই একটু হতচকিত হন। এরপরই দেখা যায়, পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ নিজের আসন থেকে উঠে এসে দুধকুমার মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর ডালিমবাবুকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কৃষিমন্ত্রীর পাশে বসিয়ে দেন পরিষদীয় মন্ত্রী।
আর মন্ত্রীর কাছে বসেই অভিমান ভুলে আলোচনায় মগ্ন হন ময়নাগুড়ির বিধায়ক। দেখা যায়, ডালিমবাবু মন্ত্রীকে বুঝিয়েই চলেছেন। আর মন্ত্রী মন দিয়ে শুনছেন। আর এই ছবি দেখে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, ‘রাগ আউট, আলোচনা ইন।’