
কলকাতা: স্বাধীনতার পর এই প্রথম! সিউড়ির মুকুটে জুড়ল পূর্ণমন্ত্রীর পালক। নতুন ইতিহাস লিখে ফেললেন সিউড়িরই ভূমিপুত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। একসময়ে ছিলেন সাংবাদিক। ঝড় তুলতেন কলমের খোঁচায়। প্রশাসনিক রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে কর্মজীবনে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিলেন। যে সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা, সেই সময় নবান্ন তথা রাজ্য প্রশাসনের খবর করতেন তিনি। শোনা যায়, দক্ষ সাংবাদিক হওয়ায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের সাংবাদিকও ছিলেন।
পরবর্তীতে সাংবাদিকতা ছেড়ে রাজনীতির এবড়োখেবড়ো ময়দানে পা। প্রথম লড়াইয়ে হারের মুখ দেখতে হলেও, হার মানেননি জগন্নাথ। ফল মিলেছে এবারের ভোটে। শুধু বিধায়ক নয়, হলেন রাজ্যের মন্ত্রীর। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের গুরু দায়িত্ব এবার তাঁর কাঁধে।
ছোট থেকেই তাঁর আরএসএস ঘনিষ্ঠতা বরাবরই চর্চায় থেকেছে। ছাত্রাবস্থাতেও করেছেন আরএসএসের ছাত্র সংগঠনই। পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ। বিগত কয়েক বছর ধরেই দলের হয়ে টানা কাজ করে গিয়েছেন। তৃণমূলের বেলাগাম দুর্নীতি নিয়ে বিজেপির হয়ে বারবার মুখ খুলেছেন টিভির পর্দায়। তাঁর ক্ষরধার শব্দের প্রয়োগে বারবার কাত হয়েছে শাসক শিবির। পড়ে থেকেছেন মাঠে ময়দানে, বারবার বিজেপির নানা আন্দোলনে তাঁকে একেবারে প্রথমসারিতে দেখা গিয়েছে। দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে প্রথমে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে রাজ্য সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার একেবারে মন্ত্রিত্বে।
২০২১ সালের নির্বাচনে জয় অধরা থাকলেও, জনপ্রতিনিধি না হলেও জনসেবার পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দলের সর্বভারতীয় স্তরের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সিউড়ির উন্নয়নের স্বার্থে বারবার কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। তার এই নিরলস চেষ্টাতেই দীর্ঘদিনের আটকে থাকা হাটজনবাজার রেল ওভারব্রিজের কাজ গতি পেয়েছে। এছাড়া সিউড়ি-শিয়ালদহ যাতায়াত সুগম করতে মেমু এক্সপ্রেস চালু, সিউড়ি স্টেশনের আধুনিকীকরণ, সিউড়ি-প্রান্তিক রেল প্রকল্পের থমকে থাকা কাজ পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সচেষ্ট হয়েছিলেন জগন্নাথ।