
কলকাতা: তিনি বেপাত্তা। পুলিশ তাঁর খোঁজ পাচ্ছে না। এবার কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। সোমবার শালবনিতে জমি প্রতারণা মামলায় অভিষেকের আপ্ত সহায়কের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তবে ডেবরায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে আগাম জামিন মঞ্জুর করল হাইকোর্ট।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি প্রতারণা মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত রায়। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, শালবনি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে। তাই তদন্ত চালিয়ে যাবেন তদন্তকারীরা। ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। অন্যদিকে, ডেবরায় চাকরি প্রতারণা মামলায় সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারপতি।
এর আগে শালবনিতে জমি প্রতারণা মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল মেদিনীপুর আদালত। এমনকি, সুমিত রায়ের খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও তল্লাশি চালায় শালবনি থানার পুলিশ। তবে অভিষেকের বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তারপর থেকেই বেপাত্তা অভিষেকের পিএ। হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। এদিন শালবনির মামলায় তাঁর সেই আবেদন খারিজ হয়ে গেল।
সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইলেন না কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এটা আইনের বিষয়। প্রশাসনিক বিষয়। মন্তব্য করব না।” তবে হাইকোর্ট সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করার পর নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। এবার কি পুলিশের জালে ধরা পড়বেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক? হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ১০ দিনের মধ্যে পুলিশকে সুমিত কীভাবে সহযোগিতা করেন, সেটাই এখন দেখার।