
কলকাতা: পদ্মার ইলিশের (Hilsha Fish) প্রতি একটা আলাদাই দুর্বলতা রয়েছে বাঙালির। বাংলাদেশের মাছের (Bangladesh Hilsha) স্বাদ ও গন্ধই আলাদা। বাজারে গেলেই ভোজনরসিক বাঙালির নজর থাকে বাংলাদেশের ইলিশের ওপর। এছাড়া, রয়েছে বঙ্গের ইলিশ। ডায়মন্ড হারবার, দিঘার ইলিশ পাতে পড়লেও মন্দ হয় না। কিন্তু, যতদিন যাচ্ছে বাংলার বাজারে এখন বাংলাদেশের ইলিশ হোক বা বঙ্গের ইলিশ ক্রমশ ডুমুরের ফুল হয়ে উঠছে। তবে বরং, বাংলার বাজার এখন কাঁপাচ্ছে গুজরাটের ইলিশ। শুধু তাই নয়, গুজরাটি ইলিশ রফতানিও হচ্ছে বাংলাদেশের বাজারে।
বিবিসি বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাটের ভারোচ উপকূল থেকে বাংলার বাজারে আসছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। জানা গিয়েছে, ভারোচে যেখানে নর্মদা নদী আরব সাগরে গিয়ে মেশে, সেই মোহনা থেকেই ইলিশ মাছ ধরা হয়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারোচে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন। আর মাছের জোগান বেশি থাকায়, তা কম দামেও বিক্রি করতে পারছে। শুধু বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এই গুজরাটি ইলিশ। ভারুচ জেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, সামনের বছর আরও বেশি ইলিশ উৎপাদন হবে।
বিবিসি বাংলাকে পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু, বাজারে জোগান ভালোই রয়েছে। তাঁদের কথায়, সেখানকার বাজারে ইলিশের বাড়তি জোগানের বড় অংশ আসছে গুজরাটের ভারোচ উপকূল থেকে। এক মাছ ব্যবসায়ী বলছেন, “সব ভারুচ থেকেই আসছে। এরকমও না যে কম পরিমাণে আসছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ টনের প্রায় ২০-৩০ ট্রাক ভর্তি মাছ হাওড়ায় আসছে।”
শুধু তাই নয়, গুজরাটি ইলিশ রফতানি করা হচ্ছে বাংলাদেশেও। বিবিসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন গত কয়েক বছরের তুলনায় কমেছে। তাই, চাহিদা অনুযায়ী জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেখানেই জায়গা করে নিচ্ছে গুজরাটের ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, এই ডিমে ভরা গুজরাটি ইলিশের চাহিদাই কিন্তু বেশি বাংলাদেশে। মূলত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছে যাচ্ছে গুজরাটি ইলিশ।
গুজরাটি ইলিশের স্বাদ তুলনামূলক কম বলে দাবি করেছেন অনেকে। তবে, ডিম বেশি থাকে এই মাছে। সেই কারণ এই ইলিশের চাহিদা বেশি বাংলাদেশে। সেখানে ডিম বের করে আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়। তারপর মাছকে নোনা বা শুঁটকি করে বাজারজাত করা হয়।