
কলকাতা: জমি লুঠ থেকে শুরু করে চাকরি দুর্নীতি, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ ভিড় জমান চাকরিপ্রার্থী থেকে হাজারও সাধারণ মানুষ। নিজেদের অভাব অভিযোগ জানিয়ে আসেন তাঁরা। আপনিও পারবেন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাতে। কিন্তু কীভাবে?
‘জনতার দরবার’ হল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি জনসংযোগ ও জনঅভিযোগ নিরসন কর্মসূচি। যেখানে সাধারণ মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ, প্রশাসনিক সমস্যা এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগ শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
কখন কোথায় ‘জনতার দরবার’ বসবে?
এটি মূলত একটি পাবলিক গ্রিভেন্স বা গণ-শুনানি কর্মসূচি। প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এই দরবার বসে। এখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতো দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আমজনতার অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনেন। চাকরিপ্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—যে কেউ তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে এখানে আসেন।
কীভাবে আবেদন বা অংশগ্রহণ করবেন?
যেহেতু এটি একটি নতুন এবং সরাসরি জনসংযোগ কর্মসূচি, তাই এতে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত সরাসরি যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। যেমন-
সরাসরি উপস্থিত হওয়া: প্রতি সোমবার নির্দিষ্ট সময়ের (সকাল ৯টা থেকে ১১টা) আগে কলকাতার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে। এক্ষেত্রে ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড নিয়মই প্রযোজ্য।
নথিপত্র সঙ্গে রাখা: আপনার সমস্যা বা অভিযোগের সপক্ষে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র (যেমন: লিখিত আবেদনপত্র, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা পূর্ববর্তী কোনো প্রশাসনিক চিঠিপত্র) সঙ্গে রাখা আবশ্যিক।
টোকেন বা সিরিয়াল ব্যবস্থা: সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি নির্দিষ্ট টোকেন বা সিরিয়াল দেওয়া হয়, যার ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ মেলে।
কোথায় কোথায় হবে জনতার দরবার?
বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় সরকারি ভবনে জনতার দরবার কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। কেবল মুখ্যমন্ত্রী নন, অন্যান্য মন্ত্রীরাও মানুষের কথা সরাসরি শুনবেন।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন ১০৩ জন। রবিবার রাত আড়াইটে থেকেও মানুষকে বিজেপির সদর দফতরের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। মুর্শিদাবাদ-কোচবিহার, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। তাঁদের মধ্যে চাকরিহারা আন্দোলনকারীরা যেমন ছিলেন, ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরাও। জানা যাচ্ছে, ব্যক্তিগত স্তরেও অনেকের সমস্যা ছিল। সেগুলোও মেটানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এদিন বিজেপির কার্যালয়েই আসা আম জনতার উদ্দেশে বলেন, “দু সপ্তাহের অপেক্ষা করতে হবে। এখনও সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন হয়নি। জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই হয়তো মন্ত্রিসভা গঠন হয়ে যাবে। যা কিছু পেন্ডিং ইস্যু আছে, সহানুভূতির সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে সরকার সম্পন্ন করবে।”