
কলকাতা: স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে কোনও গাফিলতি নয়। স্বাধীনতা দিবসে কড়া নজরদারিতে পুলিশও। যেখানে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান যাতে সুষ্ঠ ও ভালোভাবে হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে তাদের কাঁধে, তার পাশাপাশি এবার তাঁদের অর্থাৎ পুলিশের উপরও নজর থাকবে।
কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তারা থানা, ট্রাফিক গার্ডের ওসি, অন্য পুলিশ কর্তাদের মাধ্যমে ডিউটিরত পুলিশ ও আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা কেউ যেন রেড রোডে ডিউটিতে মোবাইল না ঘাঁটেন এবং ছবি বা ভিডিয়ো তুলতে ব্যস্ত হয়ে না পড়েন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে রেড রোডে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও কড়া নজরদারি রাখা। আশপাশের লোকজন ও দর্শকদের উপরেও যেন কড়া নজর রাখা হয়, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার, ১৫ অগস্ট রেড রোডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাম্প্রতিক সময়ে শহরের উপকণ্ঠ থেকে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ও পাক চর গ্রেফতারের ঘটনায় সতর্ক লালবাজার। এবার অনুষ্ঠান পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত, কোনও দর্শককে রেড রোডে নামতে দেওয়া হবে না। পুলিশের ডিউটি-ও এক মুহূর্তের জন্য শিথিল হবে না।
১৫ অগস্টের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখবে কলকাতা পুলিশের টিম। শুক্রবার রাত থেকেই গোটা রেড রোডকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। থাকছে ওয়াচ টাওয়ার, বাঙ্কার ও অতিরিক্ত সিসিটিভি। দফায় দফায় বম্ব স্কোয়াড ও পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি চলবে। রেড রোড ও ময়দানের আশপাশের কিছু রাস্তায় যানবাহন বন্ধ থাকবে।
নিরাপত্তার জন্য রেড রোডকে প্রায় ১৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন এক জন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক। সামগ্রিক দায়িত্বে থাকবেন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, ৬ জন যুগ্ম কমিশনার, ২০ জন ডিসি ও ৪০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার।
রেড রোডে তৈরি হচ্ছে ৬টি ওয়াচ টাওয়ার ও ১১টি বাঙ্কার। রেড রোডে মোতায়েন থাকছে ১৫০০ পুলিশ। মোতায়েন থাকবে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ফোর্স ও কম্যান্ডো। গোটা কলকাতা জুড়ে অতিরিক্ত আরও তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। শহরে টহল দেবে ৯টি পিসিআর ভ্যান ও ৩টি কুইক রেসপন্স টিম। ১৯টি পুলিশ পিকেট, মেট্রো রেল স্টেশনে ২৫টি পিকেট, ২৪টি পিকেট থাকছে শহরের একাধিক ঘিঞ্জি বাজার ও শপিং মল, কালীঘাট মন্দির ছাড়াও আরও সাতটি ধর্মস্থানে। মোট ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় হবে নাকা চেকিং। শহরের হোটেলগুলিতেও চলছে তল্লাশি।