
কলকাতা: যাদবপুরের বিজয়গড়ে সিপিএমের একাধিক পার্টি অফিস, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ। এবার সেই ঘটনায় বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আর তাতেই খোঁচা সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের। কুণালকেই ‘বাচ্চা ছেলে’ বললেন তিনি।
কুণাল কী বলেছেন?
যাদবপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই কুণাল বলেন, “ওদের আসলে মূল শত্রু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। সিপিএম-কেও কোনও কোনও জায়গায় ছাড়ছে না। অন্যান্য যারা বিরুদ্ধে, তাদের একে ওপর বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে, আবার অন্যকে আরেকজনের বিরুদ্ধে। কিছু দালাল, বেইমান, গদ্দারকে ভেঙে নিয়ে, তাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে। নেত্রীর আহ্বান মূল শত্রু বিজেপি। আজ সকলে একজোট হয়ে, একমত হয়ে, ইস্যুভিত্তিক ভাবে বিজেপিকে প্রতিরোধ করতে হবে।”
কিন্তু একজোট হওয়ার কথা শুনেই শুতরুপের কী উত্তর?
সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বললেন, “কুণাল ঘোষ তো বাচ্চা ছেলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকেও এখন তৃণমূলের লোকেরা এক ছাতার তলায় আসছে না। তৃণমূলের বাইরে অন্য লোক কী করতে আসতে যাবেন বলুন। আমাদের পার্টি অফিস ভেঙেছে বিজেপি, আমরা পার্টি অফিসটাকে ফের জুড়ে নেব। কিন্তু ওদের তো পার্টিটাই ভেঙে গিয়েছে। ওদের ভাঙা পার্টিটা কে জুড়বে? তার মানে এই নয়, আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, এটা মনে করি না।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, শনিবার বিজয়গড়ে যাদবপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার এবং ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সীমা ঘোষের বাড়িতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল চড়াও হয়। তারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ও কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। বাধা দিতে গেলে তাঁর দাদাকেও ধাক্কা মারা হয় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, বিজয়গড় বাজারের কার্যালয় ছাড়া বাঘাযতীনের কুসুম কানন এবং বাপুজিনগর এলাকায় সিপিআইএমের একাধিক পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। দুষ্কৃতীরা দলীয় কার্যালয়ের পতাকা, ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলে এবং ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি শহিদবেদি ভাঙচুর করে।