
কলকাতা: যাদবপুরে (Jadavpur Chaos) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে এফআইআর দায়ের বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) কর্তৃপক্ষের। বৃহস্পতিবারই উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, গত দুই দিনের ঘটনায় যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে থানায় অভিযোগে এত দেরি কেন হচ্ছে, সেই বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অবশেষে, ৩৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হল। একইসঙ্গে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছিলেন, ১৯ অগস্ট ও ২০ অগস্ট- এই দুই দিন ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। শুক্রবারই তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই মতোই এদিন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে যে তিন সদস্য রয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের। জানা গিয়েছে, তিন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, বাবা সাহেব আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও একজন আধিকারিক।
এদিকে, যাদবপুর থানায় যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে বুধবার রাত ১২টার পরে বহিরাগত কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সিসিটিভি ভাঙে। পরে তাঁরা অরবিন্দ ভবনের কোলাপসেবল গেটের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এফআইআর-এ এই অভিযোগগুলির উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগ করা হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রতীকী ফলক নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছেন অধ্যাপকরা। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপে খুশি। এটা একটা প্রাথমিক ধাপ। সিসিটিভি ফুটেজ যদি তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা যায়, তাহলে সত্যি কারা দোষী, তা জানা যাবে। যদি আমার ভিতরের ছাত্ররাও দোষ করে থাকেন, তাহলে তাঁদেরও শাস্তি হোক। বাইরের কেউ থাকলে, তাঁদেরও যেন শাস্তি হয়।” তাঁর আরও দাবি, “ফলক ভাঙার তদন্ত করা উচিত। বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবি জানাচ্ছি।”