
কলকাতা: জেলেই নাকি কাটমানি! জেলে একটু ভালো খাবার, ভালো জায়গায় ঘুমানোর জন্য মাসে কয়েদি পিছু ৭০০০-২৫০০০ টাকা তোলা! ভাবতে পারেন! ভয়ঙ্কর অভিযোগ এল সামনে। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চের।
তদন্তে জানা গিয়েছে, জেলে একটু ভালো ভাবে থাকার জন্য কাটমানির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা কয়েদিকেই দিতে হয়। পরিষেবা পেতে টাকা দিতে হবে অনলাইনে।
২ সপ্তাহে রাজ্যের জেলে দুর্নীতির লেনদেনের রিপোর্ট পেশের নির্দেশ। বালুরঘাট জেল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে মাসে ৩৫-৪০ লক্ষ টাকার সিস্টেমেটিক তোলার অভিযোগ।
২০২৩ সালের মে-জুন মোট ২৭ দিন তদন্তের স্বার্থে জেল খেটেছেন তৌহিদ ইসলাম নামে এক আইনজীবী। জেল খেটে চাক্ষুষ করেছেন দুর্নীতি, তোলাবাজির বিভিন্ন দিক। রাজ্য জুড়ে জেলে’র সিস্টেমেটিক তোলাবাজির তদন্ত চেয়ে জনস্বার্থ মামলা করেন তৌহিদ ইসলাম। রাজ্যজুড়ে জেলের এই তোলাবাজি বন্ধ করতে সিবিআই বা সিআইডি এবং ইডি তদন্ত চেয়ে মামলা।
প্রসঙ্গত, গত বছর জেল বসে ফোন করে তোলাবাজি করার অভিযোগ ওঠে বড়ঞার তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে। প্রথম এই অভিযোগ সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রামাণ্য স্বরূপ তিনি একটি এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে পালাবদলের পর জেলের দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্সি জেলে জঙ্গি আফতাব আনসারির আইফোন, রাউটার-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার হয়। তা নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায়।