
কলকাতা: জেলে বন্দিরা কীভাবে থাকেন? তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে কি নজর দেওয়া হয়? একটা সেলে কি ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয়? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর পেতে এবার আচমকা জেল পরিদর্শনে যেতে চান বিচারপতি। শুক্রবার একটি মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানালেন, জেলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আচমকা পরিদর্শনে যাবেন তিনি। জেলে মহিলাদের অবস্থা সহ বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় নিজেই একথা জানান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি। বিচারপতির জেল পরিদর্শন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে মানছেন অনেকেই।
এদিন শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, বেশ কিছু ইস্যু সামনে এসেছে। জেলে প্রচুর ভিড় হয়। এই নিয়ে রোজ বৈঠকের কথা বলা হয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানতে চান, কটি ওপেন জেল আছে? ফাঁকা জায়গা এবং লেখাপড়ার জায়গা আদৌ রয়েছে কি না, তাও জানতে চান বিচারপতি।
মামলায় আদালত বান্ধব তাপস ভঞ্জ বলেন, বন্দি মায়েদের সঙ্গে রাখা হচ্ছে শিশুদের। যা শুনে বিচারপতি বলেন, মায়ের সঙ্গে শিশু থাকতে চাইলে আমরা তাকে বের করে দিতে পারি না। যারা হোমে থাকবে, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার দেখা করতে পারবে।
অসুস্থ বন্দিরা যাতে পরিবারের সঙ্গে ওপেন জেলে থাকতে পারেন, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে এদিনের শুনানিতে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, তাঁরা প্রথমে জেলে অতিরিক্ত বন্দি সংখ্যা নিয়ে কাজ করতে চান। বিষয়টি উদ্বেগের বলে জানান তিনি।
আইনজীবী তাপস ভঞ্জ বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, নেলশন মেন্ডেলা রুল প্রতি জেলে বাধ্যতামূলক। যা শুনে বিচারপতি বাগচী বলেন, নেলশন ম্যান্ডেলা বহু বছর আগের ঘটনা। আমরা ২১ শতকের দ্বিতীয় দশকে আছি। আমরা কি বাস্তববাদী হব না?
আদালত বান্ধব এদিন অভিযোগ করেন, জেলের ভোটে যারা জিতে যায়, সেইসব বন্দিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। শক্তিশালী বন্দিরা তখন অফিসার হয়ে ওঠে। তাই তারা বাইরে গেলে তাদের জেলে ঢোকার আগে পরীক্ষা করা দরকার। তিনি আরও মন্তব্য করেন, জেলে ফোন, গাঁজা, মদ ইত্যাদি থাকে। বিচারপতি বাগচী তখন বলেন, “সেইদিনের জন্য অপেক্ষা করছি, যখন স্যাটেলাইট ফোন দেখতে পাব জেলে। আমরা ঈশ্বর নই। রাজ্য ও সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা জেলে গিয়ে দেখব কী অবস্থা। কলকাতার আশপাশের জেলের অবস্থা দেখতে চাই। তবে আগাম জানাব না, কবে যাব।” আগামী ৫ এপ্রিল মামলাটির পরবর্তী শুনানি।