
কলকাতা: আইনজীবী পরিবারের জন্ম। সেই আবহে বেড়ে ওঠার সময় আইনকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। ফলে কলেজে আইন নিয়ে পড়াশোনা। তারপর আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু। আর এবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন তপোব্রত চক্রবর্তী। এর আগে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি ফেরানো নিয়ে রায়ের সময় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী চর্চায় উঠে এসেছিলেন। বড় রায় দিয়েছিলেন ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত মামলায়ও।
১৯৬৭ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতায় এক আইনজীবী পরিবারে তপোব্রত চক্রবর্তীর জন্ম। এলএলবি পাশ করার পর ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে আইনজীবী হিসেবে তাঁর নাম নথিভুক্ত হয়। ২২ বছর কলকাতা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করেছেন তিনি। ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। বছর তিনেক পর ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ স্থায়ী বিচারপতি হন তিনি। এবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন বছর আটান্নর তপোব্রত চক্রবর্তী।
শনিবার (২০ জুন) হাইকোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তপোব্রত চক্রবর্তী। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর উল্লেখযোগ্য রায়-
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় উল্লেখযোগ্য রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলা। দুর্নীতির অভিযোগে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। পরে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার কথা জানিয়ে সেইসময় বিচারপতি চক্রবর্তীর পর্যবেক্ষণ ছিল, বহু বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি বাতিল হলে তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের উপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। সেই প্রেক্ষিতে চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করা হয়।
এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত আর এক মামলায় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “শুধুমাত্র সন্দেহ বা অনুমানের ভিত্তিতে চাকরি বাতিল করা যায় না। প্রত্যেক নিয়োগপ্রাপ্তের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অনিয়ম প্রমাণ করতে হবে। বিচারকের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণ, অনুমান নয়।”
এছাড়া ওবিসি শংসাপত্র মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি চক্রবর্তী। ২০১০ সালের পর থেকে দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দেন তিনি। ওবিসি সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে যে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছিল, তা তিনি রায়ের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।