
বারুইপুর: ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর উপর যে নারকীয় অত্যাচার হয়েছে, তা প্রাথমিক রিপোর্টে অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও উত্তপ্ত বারুইপুর। সেই আবেহেই সকাল থেকে একে একে পৌঁছে গেলেন শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা। পড়তে হল সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখেও।
মঙ্গলবার বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে সকালেই সেখানে পৌঁছে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। অগ্নিমিত্রা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবেই গিয়েছেন তাঁরা। আবার বেলার বাড়ার পর দুই এনসিপিআই সাংসদও যান মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই।
সোমবারই ঋতব্রত শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ পৌঁছলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এদিন পাশাপাশি দুটি গাড়ি যেতে দেখা যায় বারুইপুরের দিকে। একটি গাড়িতে ছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সদ্য তাঁর শিবিরে নাম লেখানো প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কলকাতার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শিউলি সাহা। পাশের গাড়িতেই ছিলেন দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সায়নী ঘোষ। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়া এই দুই সাংসদ বর্তমানে এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন ও লোকসভায় এনডিএ-কে সমর্থন করছেন।
প্রায় একসঙ্গেই এই পাঁচজন পৌঁছে যান বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে। প্রথমেই যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে আটকে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। তাঁর সংসদীয় এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কেন সায়নী দু-দিন পর গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। এক ব্যক্তি বলেন, ‘দু-দিন পর কি মুখ দেখতে এসেছেন? এতদিন কোথায় ছিলেন? প্রথমে এলেন না কেন?’ গো ব্যাক স্লোগানের মুখেও পড়তে হয় সায়নীকে। পরে তাঁকে ও কাকলিকে ঢুকতে দেওয়া হয়। বাইরে বেরিয়ে সায়নী বলেন, “আমি কথা বলে যা বুঝলাম, এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর নেক্সাস আছে। মূল থেকে উৎখাত করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট সেন্সিটিভ, তাঁর সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলব।”
পরে সায়নীকে ঢুকতে দেওয়া হলেও আটকে দেওয়া হয় ঋতব্রতদের। তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ একই। পরে তাঁরা প্রবেশ করতে পারেন।
কাকলি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “পরিবারের পাশে থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন। এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য আমরা লড়াই করব।” অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবিও জানান তিনি। একই কথা শোনা যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের গলাতেও। তিনিও ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের দাবি জানিয়েছেন। সোমবারই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।