
কলকাতা: তৃণমূলে জমে উঠেছে একুশে জুলাই সংঘাত। জোর দড়ি টানাটানি কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত-তৃণমূল। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশ করতে চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দিচ্ছে ঋতব্রত-তৃণমূল। কাগজপত্র ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লোক প্রস্তুত করার জন্য। নিজ নিজ এলাকা থেকে যতটা সম্ভব বেশি লোক আনতে হবে, স্পষ্ট জানানো হয়েছে নেতৃত্বের তরফে। এরইমধ্যে আবার টানাপোড়েন অন্য ক্ষেত্রেও।
জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে। বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে দলের নাম ব্যবহার করার জন্য পুলিশের কাছে আবার ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে কালীঘাট-তৃণমূল। প্রতারণা, চক্রান্ত, ভিত্তিহীন তথ্য ও নথিপ্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তা নিয়েও রাজনৈতিক আঙিনায় তৈরি হয়েছে চাপানউতোর। নিউ টাউন থানায় ই-মেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনা।
ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন কুণাল ঘোষ। বলছেন, “বেইমানরা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া প্রতীক নিয়ে, মমতার দল থেকে জিতে যদি রাতারাতি কেউ বলেন মমতার হাত থেকে প্রতীক নিয়ে নেব তাহলে জানবেন এরা মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে। এটাই এদের মানসিকতা। ওদের পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার আসলে শেষ। নির্বাচন কমিশন যদি ওদের সিম্বলও দেয় তাহলে জেনে রাখবেন আমাদের কাছে সিম্বল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখটাই।”
প্রসঙ্গত, একদিন আগেই ঋতব্রত-শিবিরের নেতারা বৈঠক করেন কলকাতা পুরসভার ৫০ এর অধিক কাউন্সিলরদের নিয়ে। সেখানে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত কথাও হয়। সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম মুখ সন্দীপন সাহা বলছেন, “ আমরা মিটিং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়েই করেছি। এখন কে কী দাবি করল সেটা বিষয় নয়। কাদের সঙ্গে মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে দুই শিবিরের কাজিয়ার মধ্যে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলছেন, “এরা ঋতব্রত হবে না কালীঘাট হবে তাতে বাংলার মানুষেক কিছু যায় আসে না। একদল বলছে আমরা বেইমান, একদল বলছে আমরা বেইমান নই। এরাই ভোটের আগে বলেছিল বিজেপি ৫০টা সিট পাবে না।”