
কলকাতা: গত দু মাসে একের পর এক তৃণমূল (TMC) নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। গুচ্ছ গুচ্ছ এফআইআর দায়ের হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা থেকে একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। সামনে এসেছে ভয়ঙ্কর সব দুর্নীতির অভিযোগ। এই আবহে আদালতে শাসকদলের বিরুদ্ধে জোর সওয়াল করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। বিরোধীদের বিরুদ্ধে বাম আমলের থেকেও এখন শাসক দল বেশি তৎপর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
৪ মে থেকে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার এফআইআর (FIR) হয়েছে। কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ না করলে এফআইআরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এফআইআরহলেও সেগুলি সম্পর্কে কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। আদালতে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
শ্রীরামপুর থানার শ্যাওড়াফুলি, রিষড়ার মোট পাঁচ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর (FIR) খারিজ করার আবেদন জানিয়ে মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। বাম জমানাতেও পুলিশের এমন সক্রিয়তা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ, ‘২০০৬-০৭ এও আপনাকে দেখেছি নিজের দলের নেতাদের এফআইআর খারিজ মামলায়।’ এ কথা শুনে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০০৬-০৭ এও এত FIR হয়নি বিরোধীদের বিরুদ্ধে। ১৪ হাজার কেস হয়েছে রাজ্য জুড়ে। কীভাবে সামলাবেন?” তিনি আরও বলেন, “ঠিক করেছি, কোনও ফি ছাড়া এক বছর কাজ করে যাব তৃণমূলের যে কোনও মামলায়।”
কল্যাণের অভিযোগ সম্পর্কে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “ওঁর কোনও কথার প্রতিক্রিয়া দিতে পারব না। ১৫ বছর ধরে যাঁরা মানুষের সব হরণ করেছে, তাঁদের কোনও কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা নতুন পশ্চিমবঙ্গ বানানোর চেষ্টা করছি।”
অন্যদিকে, বাম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “উনি ওঁর অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। আজ সবাই পার্থক্যটা বুঝতে পারছে। ৩৪ বছরে মানুষের মৌলিক অধিকার ছিল। তাদের ধ্বংস করার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। আমি এ কথাই বারবার বলে আসছি।”
শ্রাবন্তী সাহা ও কৌস্তভ গঙ্গোপাধ্যায়ের রিপোর্ট