
কলকাতা: তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ। দীর্ঘদিন ধরে লোকসভায় দলনেতার পদেও ছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে অসুস্থ হওয়ার পর সেই পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে। উত্তর কলকাতার সাংসদকে নিয়ে আগেও দলের মধ্য়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তাঁর জন্য় অনেক নেতা দল ছেড়েছেন বলেও চর্চা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনই সুদীপের সঙ্গে সম্পর্কত্যাগ করেননি। সেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee) এবার এনডিএ শিবিরকে সমর্থন করা কথা ভাবছেন? শতাব্দীর রায়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা যাওয়ায় এমনই জল্পনা বেড়েছে। কিন্তু কেন এমনটা করবেন সুদীপ? কী বলছেন দলের বর্ষীয়ান সাংসদরা?
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সুদীপের যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। একসময় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রোজভ্যালি মামলার অভিযুক্ত হিসেবে জেল হেফাজতে ছিলেন, তখন কীভাবে তিনি আইনি সাহায্য করেছিলেন, সে কথা মনে করিয়ে দেন কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। দাবি করেন, সুদীপের জন্য দলের অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
কল্যাণ বলেন, “সুদীপ দা যদি রোজভ্যালি-কাণ্ডে ইডি-র মামলা থেকে অব্যাহতি চান, তাহলে সুবিধা হবে, তাই হয়ত সুদীপ দা গিয়েছেন। ওঁর তো এমন একটা অভ্যাস আছে। কংগ্রেসে গিয়েছিলেন, আবার তৃণমূলে এসেছেন। তারপরও মমতা দি ওঁকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে। সুদীপ দা কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কাছে একটা নতুন গাড়ি চেয়েছিলেন। কারণ দিল্লির গাড়িটা ১৭ বছর হয়ে গিয়েছে। নতুন গাড়ি চাই। মমতা দি দেননি। বলেছেন, ‘এখন গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়, দলের পুরনো গাড়ি আছে, ইচ্ছে হলে ব্যবহার করুন’। সুতরাং সুদীপ দা কী কারণে গিয়েছেন, তা বলা মুস্কিল।”
অন্যদিকে, দমদমের সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “কয়েকদিন আগে সুদীপের সঙ্গে কথা হয়েছিল। বলেছিল, আমি কোথাও যাচ্ছি না। গেলে তোমাদের জানাব। কিন্তু আজ শতাব্দীর সঙ্গে একই গাড়িতে দেখা গেল। এটা মানুষের নৈতিকতার ব্যাপার।”