Kalyan Banerjee: ‘মনে রেখো, নরেন্দ্র মোদী তোমাদের নেতা’, বেসুরো সংখ্যালঘু সাংসদদের স্মরণ করালেন কল্যাণ! কেন?

Kalyan Banerjee On Rebel TMC MP: সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর বরাবরই বঙ্গীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য পেয়ে এসেছে। সমালোচকদের মতে, মোদী সরকারের অধীনে সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় কোনও মুসলিম প্রতিনিধি না থাকাকে অনেকে এই ফ্যাক্টরের একটি বড় দিক হিসাবে মনে করছেন তাঁরা।

Kalyan Banerjee: মনে রেখো, নরেন্দ্র মোদী তোমাদের নেতা, বেসুরো সংখ্যালঘু সাংসদদের স্মরণ করালেন কল্যাণ! কেন?
সংখ্যালঘু সাংসদদের বার্তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Jun 09, 2026 | 12:10 PM

কলকাতা: বিধানসভা আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। এবার লোকসভাতেও ধাক্কা খেতে হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদীয় দলও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বেশিরভাগ সাংসদই NDAতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। হাতে রয়েছেন ৮ জন। যে সব সাংসদরা মুখ ফিরিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে চার জন সংখ্যালঘু সাংসদও রয়েছেন। ইউসুফ পাঠান, সাজদা আহমেদ,  আবু তাহের, খলিলুর রহমান। ‘বিক্ষুব্ধ’দের আগেই বিশ্বাসঘাতক অ্যাখ্যায়িত করেছে তৃণমূল। এবার সংখ্যালঘু সাংসদদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘আবু তাহের, খলিলুর রহমান, তোমার নেতা কিন্তু নরেন্দ্র মোদী। মনে রেখো।’

উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর বরাবরই বঙ্গীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য পেয়ে এসেছে। সমালোচকদের মতে, মোদী সরকারের অধীনে সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় কোনও মুসলিম প্রতিনিধি না থাকাকে অনেকে এই ফ্যাক্টরের একটি বড় দিক হিসাবে মনে করছেন তাঁরা। সেক্ষেত্রে তৎকালীন মমতা-সরকার বরাবরই সংখ্যালঘুদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে ‘বিপর্যয়ের’ দিনে মমতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে হঠাৎই NDA-তে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশে সংখ্যালঘুদের সাংসদদের নাম উল্লেখ করেই খোঁচা দিতে কসুর করেননি কল্য়াণ।

তাঁদের উদ্দেশে কল্যাণ বলেন, “আমি ওঁদের প্রত্যেককে বলব বিধানসভা এলাকায় যান, যাঁদের ভোট নিয়ে এসেছিলেন, যে সব কর্মীরা লড়াই করেছিলেন আপনাদের জন্য, তাঁদের সঙ্গে মিটিং করুন। আবার গেরুয়া লোকদের নিয়ে মিটিং করবেন না।”

কল্যাণের বক্তব্য, এখন যে প্রত্যেক বিক্ষুব্ধরা বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নাকি তাঁদের একাধিক অভিযোগ! কিন্তু কল্যাণের প্রশ্ন, “অভিযোগ কোথায় কাকে জানিয়েছিলেন? যদি অভিযোগ জানিয়ে থাকেন, তাহলে চিঠির কপি বা মেইল দেখান।  আমরা তো অস্বীকার করছি, অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলে, তাহলে প্রমাণ দেখান।” বরং কল্যাণের বক্তব্য, মহিলা সাংসদরা ‘দিদিকে’ তুষ্ট করতে বারবার বলেছেন, “মহিলা এমপি-গুলোই বলেছে, দিদি কী সুন্দর তোমার শাড়ি। কী সুন্দর তোমার শাড়ির পাড়। কোনও অভিযোগ জানাইনি।”

বিক্ষুব্ধদের খোঁচা দিয়ে কল্যাণ বলেন, “আসলে ওঁরা সবাই ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছেন বলে আজও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই থাকতে চাইছেন।” কিন্তু বিজেপি যে তাঁদের কোনওভাবেই নেবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। তাঁর কথায়,  “কে নারদায় ঘুষ খেয়েছে, কে সিন্ডিকেট করে ঘুষ খেয়েছে, কে সমুদ্রে গিয়ে কী করেছে, সব জানে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না।”

অন্যদিকে আবার তারকা সাংসদদের উদ্দেশেও কল্যাণ বলেন, “ফিল্মস্টাররা ভিনদেশি তারা, ওদের ধারণা যেহেতু পাবলিক আমাদের দেখে দৌড়ে আসে, তাই পার্লামেন্টেও আমাদের দেখে সব দৌড়ে আসবে। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় জিততে পারত না।”

যদিও এসবের পরেও মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “দলটাই উঠে যাবে, সংখ্যা বাড়ল আর কমল! দলটা যত তাড়াতাড়ি উঠে যাবে, ততই গণতন্ত্রের মঙ্গল। বাংলার মঙ্গল।”

Follow Us