
কলকাতা: সিআইডি-র সাঁড়াশি চাপ। দুখানা অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে তদন্ত করছে সিআইডি (CID)। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁকে। অন্যদিকে কলকাতা পুরনিগমের তরফে দফায় দফায় নোটিস যাচ্ছে তাঁর বাড়িতে। চাপ বাড়ছে ক্রমশ। এই আবহেই অভিষেকের ব্যবহারে চরম ক্ষুব্ধ আইনজীবী কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Kalyan Banerjee), ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর ছেলে তথা আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ওঁর রক্ষাকবচের জন্যই তো লড়ছিলাম, আমি তো আর রক্ষাকবচ পাব না!”
বিবাদের সূত্রপাত বুধবার রাতে। সই-কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের করা মামলা লড়ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মামলা থাকায় রাতেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কল্যাণ। আচমকা মধ্যরাতে মেসেজ পাঠিয়ে অভিষেক জানান, তাঁর হয়ে মামলা লড়ার প্রয়োজন নেই। এতেই যার পর নাই ক্ষুব্ধ দুই আইনজীবী। কল্যাণ তো সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে বার্তা দিয়েছেন, অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে চললে, তিনি থাকবেন না। এদিকে, তৃণমূলেরই আর এক সদস্য শীর্ষণ্য বললেন, অন্তত একবার আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।
TV9 বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শীর্ষণ্য বলেন, “ওঁর একটা রক্ষাকবচের জন্য লড়াই করছি। রক্ষাকবচ তো আর আমি বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাবেন না। বলতেই পারতেন ওঁর ফ্যান্সি উকিল দরকার। তাহলে আলোচনা করা যেত। এভাবে ১২.৫০ এ মেসেজ পাঠিয়ে বলা যায় না।”
শীর্ষণ্যর বক্তব্য, তিনি বা তাঁর বাবা যখন এতদিন ধরে মামলাগুলি লড়ছেন, তখন আইনজীবী বদলানোর আগে একবার পরামর্শ নেওয়া য়েতে পারত। অভিষেকের উদ্দেশে শীর্ষণ্য বলেন, “তুমি যদি সবই জানো, তাহলে উকিলের কাছে আসার কী দরকার ছিল। দলের যে কর্মী যেখানে বলেছে গিয়েছি। তারপরও যদি ভরসা করতে না পারেন, কী করতে পারি।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে যে আইনজীবীরা অভিষেকের হয়ে লড়তে চাইছেন না, পরোক্ষভাবে সে কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন শীর্ষণ্য। তিনি বলেন, “হাইকোর্টে উকিলরা অভিষেকের হয়ে অ্যাপিয়ার করবে বলে পাগল হয়ে যাচ্ছে, এমনটা তো নয়।” অভিষেকের ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হলেও দলের সঙ্গে যে কোনও বিরোধ নেই, সেটা অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন শীর্ষণ্য। তিনি বলেন, “দলটা তো আর শুধু অভিষেকের নয়।”