
কলকাতা: বাড়িতে ঢুকেই যে কারও চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে। বাড়ির মধ্যে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (ICU)। বিরল প্রজাতির দামি বিদেশি পাখির জন্য এই ICU। তাও একটি নয়, অত্যাধুনিক ৪-৫টি আইসিইউ ছিল বাড়ির মধ্যে। ব্যবসায়ী ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করার পরই সেইসব সামনে আসে। ওই ব্যবসায়ী বিদেশি পাখির পাচারকারী বলে অভিযোগ ওঠে। এবার ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার PMLA আদালতে জমা পড়েছে চার্জশিট।
বিদেশি পাখি পাচারের অভিযোগে বছর দুই আগে ব্যবসায়ী ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে বনবিভাগ। তারপরই তাঁর একের পর এক ‘কীর্তি’ সামনে আসে। ঘটনার তদন্তভার নেয় ইডি। ঘটনার তদন্তে বয়ান নেওয়া হয় গ্যালিফ স্ট্রিটের কয়েকজন পাখি ব্যবসায়ীর। সোমবার PMLA আদালতে যে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, আপাতত ৩ কোটি টাকার বেআইনি সম্পত্তির হদিস পাওয়া গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, শুধু ICU নয়, ধৃত ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডিম ফুটিয়ে পাখির বাচ্চা জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল।
এই মামলার তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য:
এই চক্রের শিকড় সন্ধান করতে গিয়ে কলকাতার বিখ্যাত গ্যালিফ স্ট্রিটের বেশ কয়েকজন পাখি ব্যবসায়ীর বয়ান রেকর্ড করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। এই পাচারকারী নিজের বাড়িতে কৃত্রিম উপায়ে কিংবা ইনকিউবেটরের সাহায্যে বিদেশি পাখির ডিম ফুটিয়ে সেগুলির বংশবৃদ্ধি করতেন এবং চোরাবাজারে চড়া দামে বিক্রি করতেন বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, ধৃত ব্যবসায়ী ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যের বাড়িতে বিরল ও অত্যন্ত মূল্যবান বিদেশি পাখিদের রাখার জন্য ৪ থেকে ৫টি অত্যাধুনিক আইসিইউ তৈরি করা হয়েছিল। এই বিদেশি পাখি পাচারের শিকড়ের জাল কতদূর বিস্তৃত সেটাই এখন দেখার।