
কলকাতা: রক্ত বিক্রির চক্র নিয়ে শোরগোল পড়েছে রাজ্যে। রক্ত বিক্রির চক্রে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সরকারি হাসপাতালের ৩ ল্যাব টেকনিশিয়ানকে। এই পরিস্থিতিতে সামনে এল আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। নাম জড়াল কলকাতার বেলেঘাটার একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের। পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও একদিনে ৩৫টি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ১৬০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করে ওই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। কিন্তু, সেই রক্ত গেল কোথায়? তারই তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য ভবন।
জানা গিয়েছে, বেলেঘাটার ওই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে একদিনে সংগ্রহ করা ১৬০০ ইউনিট রক্তের স্ক্রিনিং করার পরিকাঠামো নেই। ১৬০০ ইউনিট রক্তের উপাদান ভাগ করারও পরিকাঠামো নেই। ওই ব্লাড ব্যাঙ্কে একদিনে শিবির থেকে সংগৃহীত রক্ত জমা করা, রোগীদের পাঠানো, পুরো বিষয়টি দেখভাল করার মতো কর্মীও নেই। নেই, নেই, নেই। তাহলে একদিনে কেন ৩৫টি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে ১৬০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হল? তার চেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, ওই ১৬০০ ইউনিট রক্ত গেল কোথায়? কালোবাজারিতে কি জড়িত বেলেঘাটার ওই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কও?
স্বাস্থ্য ভবনের তদন্তে উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। রক্তদাতাদের পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা। সেখানে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়াদের নাকি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রক্তদান শিবিরগুলিতে। তারই তদন্তে মঙ্গলবার ৩ ডাক্তারি পড়ুয়াকে তলব করেছিল স্বাস্থ্য ভবন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “তদন্ত চলছে। রক্ত কোথায় গেল , কারা যুক্ত সব বেরিয়ে আসবে। পদে পদে অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। যা বলার আমাদের আইনজীবী হাইকোর্টে বলবেন।” একইসঙ্গে তিনি জানান, “প্রত্যেক ব্লাড ব্যাঙ্কের একটা সংরক্ষণ ক্ষমতা রয়েছে। নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করলে তা ঠিকমতো পরীক্ষা হবে না। রক্ত নষ্ট হবে।”