
সুজয় পাল
কলকাতা: ধর্মতলায় CJP এবং ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা। সাংবাদিকদের উপর হামলা। এই নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার আন্দোলনে হিংসা ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন মহম্মদ আফরোজ। মুখ্যমন্ত্রী যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন, তার একজন হলেন আফরোজ। আবার আফরোজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর ভিডিয়ো রয়েছে। ফলে তাঁর তৃণমূল যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, কলকাতা পুলিশকে ইমেইল করে CJP জানিয়েছে, ধৃতদের কেউই তাদের সঙ্গে যুক্ত নয়।
কী বলছে কলকাতা পুলিশ?
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, গতকালের হিংসা ও সাংবাদিকদের উপর হামলায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা কেউই পড়ুয়া নন। কুণাল আগরওয়ালের কথায়, “ওরা সবাই অশান্তি সৃষ্টিকারী। গতকাল CJP-র সমাবেশে উপস্থিত থেকে তারা ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিল।”
ধৃতদের নাম কী?
কলকাতা পুলিশের তরফে ১১ জন ধৃতের নাম জানানো হয়েছে। ধৃতরা হলেন, জোড়াসাঁকোর ইরফান খুরশিদ। বছর তিরিশের ইরফানের বাড়ি জোড়াসাঁকোর ভবানী দত্ত লেনে। আমহার্ট স্ট্রিটের বছর পঞ্চাশের আরশাদ আলি, তিলজলার বছর ছাব্বিশের মহম্মদ মইনউদ্দিন, জোড়াসাঁকোর বছর আটচল্লিশের মহম্মদ আলমগির, জোড়াসাঁকোর বছর উনিশের ইমরান আহমেদ, জোড়াসাঁকোর বছর সাতচল্লিশের খালিদ রেজা, বেনিয়াপুকুরের বছর বিয়াল্লিশের জমির আহমেদ, কড়েয়ার বছর তিরিশের মহসিন খান এবং কড়েয়ার বছর আটত্রিশের দীপক ভৌমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উপরোক্ত এই নয় জন ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে গার্ডেনরিচের মহম্মদ আজাদ এবং মেটিয়াব্রুজের মহম্মদ আফরোজকে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ২ জন পশ্চিমবঙ্গে ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এবং অন্ডালের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মেটিয়াব্রুজের মহম্মদ আফরোজের সঙ্গেই তৃণমূল নেতাদের ভিডিয়ো সামনে এসেছে। যদিও এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গতকাল নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র চেহারা নিয়েছিল ধর্মতলা। মিছিলের মাঝেই হঠাৎ উড়ে আসে এলোপাথাড়ি ইট-বোতল-লাঠি,জুতো। আক্রান্ত হন পুলিশ কর্মী। গুরুতর জখম হন অনেক সাংবাদিক। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় টিভি৯ বাংলাও। গুরুতরভাবে জখম চিত্র সাংবাদিক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত ও মাখন পাত্র। আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিক সুমন মহাপাত্রও। আহতদের এসএসকেএমে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। একইসঙ্গে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাসও দেন তিনি।