
কলকাতা: রাজ্যজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। কখনও নামী রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকানগুলিতে পৌঁছে যাচ্ছেন অধিকারিকরা, নজরদারিতে রয়েছে ছোট রেস্তরাঁ থেকে খাবার-মিস্টির দোকানগুলিও। কোথাও পাওয়া গেল পচা মাংস, কোথাও আবার কিলবিল করছে পোকা। এমনকী, ডেট পার হয়ে যাওয়া, ছাতা পড়া জিনিসও পাওয়া গিয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান এবং হোটেলের লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়েছে। শুক্রবারও লেকটাউনের একটি নামী বিরিয়ানির দোকানে তল্লাশি চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। তল্লাশির পর বেশ কিছু খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে, রেস্তরাঁর রান্নাঘর দেখে চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। চারপাশে শুধু ভনভন করছে মাছি।
শুক্রবার সকালে ওই রেস্তরাঁয় যৌথভাবে অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দফতর, ক্রেতা সুরক্ষা দফতর ও লেকটাউন থানার আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, তল্লাশির পর দেখা গিয়েছে, জলের বোতল লোকাল ভেন্ডারের থেকে কেনা হচ্ছে। ফুড সেফটির ট্রেনিং নিয়েছিলেন যে বাপ্পা মণ্ডল, তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ফ্রোজ়েন জাতীয় জিনিস যেমন পনির, কাসুন্দির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে, পেস্ট কন্ট্রোল ঠিকভাবে হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “তদন্ত করে দেখা গেল ২০২৫ সালে হাইজিনিটি হয়েছিল। ফোর স্টার পেয়েছিলেন। কিছু ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে। সেগুলো আমরা দেখছি। কিছু স্যাম্পেল তোলা হয়েছে। কাসুন্দি, পনির জাতীয় জিনিস নেওয়া হয়েছে। চিকেনের ক্ষেত্রে সেরকম নিম্ন মানের কোনও কোয়ালিটি পাওয়া যায়নি। কোনটা ফ্রেশ দেখে বোঝাই যাচ্ছে। মূল সমস্যা হল পেস্টিং কন্ট্রোল। প্রচুর মাছি উড়ছে। বিষয়টার উপর নজর দিতে বলা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, লেকটাউনে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ছেলের দুই রেস্তরাঁতেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৬০ কেজি পচা মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে খবর।