
কলকাতা: দুর্গার পর এবার দিব্যা। কলকাতার মাটির নীচে আরও এক বড় সাফল্যের সামনে জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্প। আগামী ২০২৯ সালে সম্পূর্ণ প্রকল্প শেষ হবে। দক্ষিণ শহরতলি থেকে পশ্চিম কলকাতা হয়ে মেট্রো জুড়বে মধ্য কলকাতা।ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনে পৌঁছতে চলেছে দ্বিতীয় টানেল বোরিং মেশিন—‘দিব্যা’। খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়ার পথে দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ করে এবার ভিক্টোরিয়ায় ব্রেকথ্রুর অপেক্ষা। এর আগে গত জুলাইয়ে একই পথে প্রথম সুড়ঙ্গের কাজ শেষ করে ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছেছিল ‘দুর্গা’।
কলকাতা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার প্রেমসাগর গুপ্তা বলেন, “আজ দিব্যা, নিজের যাত্রা শেষ করেছে। ১৭৪০ মিটারের এই দূরত্ব ১০মাসে শেষ করেছি। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। সাকসেসফুল টানেলিং করা প্রত্যেক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের এক স্বপ্ন হয়। আর আমরা সত্যিই এ ব্যাপারে খুশি, এটা কারোর কোনও ক্ষতি না করে, সম্পন্ন হয়েছে।”
ভিক্টোরিয়া, কলকাতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আর সেই ভিক্টোরিয়ার মাটির নীচেই চলছে আধুনিক মেট্রো সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ। খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৭৪০ মিটার ভূগর্ভস্থ পথে সুড়ঙ্গ তৈরি করছে দুটি TBM—‘দুর্গা’ এবং ‘দিব্যা’। গত বছরের জুলাইয়ে ‘দুর্গা’ প্রথম সুড়ঙ্গের খনন শুরু করেছিল। ঠিক তার পর দ্বিতীয় সুড়ঙ্গের দায়িত্ব নেয় ‘দিব্যা’।
মাটির নীচে কাজটি মোটেই সহজ ছিল না। ঘনবসতিপূর্ণ শহর, ভূগর্ভস্থ জল এবং উপরিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নীচ দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়েছে TBM। সুড়ঙ্গ তৈরির পাশাপাশি প্রতিটি ধাপে মাটির চাপ ও স্থিতিশীলতার দিকেও নজর রাখতে হয়েছে।
এবার সেই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভিক্টোরিয়া মেট্রো স্টেশনের কাছে পৌঁছে যাবে ‘দিব্যা’। ফলে খিদিরপুর–ভিক্টোরিয়া অংশে জোড়া সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
‘দুর্গা’র পর ‘দিব্যা’র সাফল্য। আর তার পর লক্ষ্য ভিক্টোরিয়া থেকে পার্ক স্ট্রিট। অর্থাৎ, জোকা থেকে কলকাতার কেন্দ্রস্থলের দিকে পার্পল লাইনের সংযোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। মাটির নীচে একের পর এক প্রযুক্তিগত বাধা পেরিয়ে কলকাতা মেট্রোর এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে শহরের পরিবহণ পরিকাঠামোয় বড় সংযোজন হতে চলেছে।