
কলকাতা: মেট্রো স্টেশনগুলিতে (Kolkata Metro Station) প্রায় এসকেলটরে সমস্যা দেখা যায়। দীর্ঘদিন খারাপ হয়ে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এবার যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়, তার জন্য উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো করিডরের স্টেশনগুলিতে ( (North-South Metro Corridor Station) পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পুরনো পরিকাঠামোতে বদল আনতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। চালু হতে চলেছে ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Digital Management System)। শুধু এসকেলেটর নয়, আরও কোনও ত্রুটি থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে স্টেশনের বিভিন্ন পরিষেবার অবস্থা এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোথাও কোনও ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য মেট্রো কর্তৃপক্ষের। মেট্রো সূত্রে খবর, উত্তর-দক্ষিণ শাখার পুরনো পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি ট্র্যাক, রেল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন সাব-স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিস্টেমে কোনও একটি স্টেশনের বাতানুকূল ব্যবস্থা,বায়ু চলাচল,লিফট,এসকেলেটর,জল নিষ্কাশন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে নজরদারি করা যাবে। কোনও যন্ত্র বা ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
নতুন ব্যবস্থায় যন্ত্রনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে বিশেষ সংকেত তৈরি হবে। সেই তথ্য সরাসরি মেট্রোর কন্ট্রোল রুমে পৌঁছবে। ফলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করার আগেই কন্ট্রোল রুম থেকে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একাধিক স্টেশনকে নিয়ে তৈরি করা হবে পৃথক ক্লাস্টার। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি করে স্টেশনকে একটি ক্লাস্টারের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্টেশনকে কেন্দ্র করে নজরদারি ও পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে স্টেশনের বাতানুকূল ব্যবস্থার তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সময় অন্তর কর্মীদের পরীক্ষা করে দেখতে হয়। নতুন সেন্সর-ভিত্তিক ব্যবস্থায় সেই কাজ অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে। নির্ধারিত সীমার বাইরে তাপমাত্রা চলে গেলে সরাসরি কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পৌঁছতে পারে। ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে স্টেশন রক্ষণাবেক্ষণ, পরিকাঠামোর নজরদারি এবং পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে গতি বাড়বে। একই সঙ্গে পুরনো মেট্রো পরিকাঠামোর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কেন্দ্রীভূত ও কার্যকর করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।