
কলকাতার ১৫০ বছরের পুরোনো নস্ট্যালজিয়া এবং ঐতিহ্যবাহী ট্রাম এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে ফিরতে চলেছে শহরের রাজপথে। ট্রামকে কেন্দ্র করে নতুন এক ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতার দুই অন্যতম প্রধান পুণ্যভূমি কালীঘাট এবং দক্ষিণেশ্বর মন্দিরকে এবার যুক্ত করতে চলেছে ট্রাম পরিষেবা। বুধবার পার্ক স্ট্রিটের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত বণিকসভার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
বহুদিন ধরেই মহানগরের ট্রাম পরিষেবার পুনরুজ্জীবন নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। তবে বর্তমান সরকারের এই নতুন উদ্যোগ শহরের ট্রামপ্রেমীদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী জানান, এই রুটে সাধারণ ট্রাম নয়, বরং সম্পূর্ণ আধুনিক এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) ট্রাম চালানো হবে। শুধু তাই নয়, কলকাতার পাশাপাশি সল্টলেক, নিউটাউন এবং রাজারহাটের বুকেও ট্রাম ছোটানোর বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য।
শহরের রাস্তায় ট্রামের কারণে যানজট তৈরি হয়— দীর্ঘদিন ধরে ওঠা এই অভিযোগ মেটাতে এবার এক অভিনব কৌশল নেওয়া হচ্ছে। অর্জুন সিং স্পষ্ট করেছেন, নতুন এই ট্রামগুলি রাস্তার মাঝখান দিয়ে নয়, বরং রাস্তার একেবারে বাঁদিক ঘেঁষে চলাচল করবে। এর জন্য নতুন করে ট্রামলাইন পাতার কাজও খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। বিদেশের ধাঁচে তৈরি এই ট্রামগুলি চলবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি প্রযুক্তির সাহায্যে, যার ফলে একদিকে যেমন দূষণ কমবে, অন্যদিকে বাঁচবে জ্বালানিও।
কলকাতার এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক উপায়ে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। শহরের কোন কোন রুটে কীভাবে ট্রাম চালানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘রাইটস’ (RITES)-কে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে সেই সার্ভের কাজ।
পরিবহণ দপ্তরের আশা, দক্ষিণেশ্বর এবং কালীঘাটের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান ট্রামলাইনের মাধ্যমে জুড়ে গেলে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের যাতায়াত যেমন অনেক সহজ হবে, তেমনই কলকাতার বুকেও তৈরি হবে এক নতুন আকর্ষণ।