
কলকাতা: কে ‘আসল’ তৃণমূল আর কে ‘নকল’ এই নিয়ে তো লাগাতার তর্ক-বিতর্ক চলছে। সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে একাধিক বিধায়ক যোগ দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। গুটি কয়েকজন বিধায়ক এখনও রয়েছেন মমতার সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বলা ভালো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুঃসময়ে যিনি এখনও কালীঘাটের অন্যতম শক্ত খুঁটি, সেই কুণালকেই এবার বড় অফার ঋতব্রত শিবিরের। তা আবার কুণাল ঘোষ জানালেন নিজের মুখেই।
বুধবার কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন বিধানসভায় বক্তা হিসাবে নাম কেটে দিচ্ছে ঋতব্রত শিবির। বক্তা হিসাবে নাম কেন নেই সেই হাউসের অন্দরেই প্রশ্ন করেন কুণাল।এই নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা। আখরুজ্জামানের সামনে এসে কুণাল প্রশ্ন করেন, “বক্তা তালিকা থেকে আমার নাম কাটলেন কেন? নাম কাটলেন কেন” সেই সময় আখরুজ্জামান কোনও উত্তর না দিয়েই নিজের বক্তব্য পেশ করতে থাকেন। এদিকে, কুণালও অনড়। তিনিও একই প্রশ্ন করতে থাকেন। ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। হাউসের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলতা তৈরি হয়। এরপর অধ্যক্ষ বারেবারে কুণাল ঘোষকে সতর্ক করে বলেন, “আমি কিন্তু বলছি আপনি না বসলে বের করে দেব।” তারপর মার্শাল ডেকে চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হয় বেলেঘাটা বিধানসভার বিধায়ককে।
পরে তিনি বিকেলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন। সেখান থেকে কুণাল দাবি করে বলেন, “আমাকে জাভেদ খান বলেছেন, আপনি এদিকে চলে আসুন। তাহলে বলতে পারবেন। এটা কোনও কথা হল…।” প্রসঙ্গত, জাভেদ খানও এখন ঋত শিবিরের সদস্য। এবার তিনিই নাকি অফার দিয়েছেন কুণাল ঘোষকে তাঁদের শিবিরে যোগদানের। কুণাল এ দিন এও দাবি করেছেন, আখরুজ্জামান তাঁকে নাকি বলেছেন, তাঁর সঙ্গে কুণালের সম্পর্ক ভাল। তবে, উপর থেকে ওপর থেকে বারণ আছে। এই উপরটা কে সেই বিষয়ও জানতে চান কুণাল।